মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল ফিতরের অনাবিল আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। তবে বড়দের চেয়ে শিশুদের ঈদের আনন্দ যেন সবসময়ই একটু অন্যরকম, একটু বেশি রঙিন। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ‘বন্ধনে থাকবো মোরা এটাই মোদের পণ, অনুষ্ঠানে মিলেমিশে করবো অংশগ্রহণ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আমেজে কাটছে শিশুদের ঈদ। কাশিপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত চিরাচরিত ঘোরাঘুরির পাশাপাশি এবার তাদের ঈদের আনন্দের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে চকলেট কুড়ানো, বিস্কুট দৌড় আর বেলুন ফোটানোর ধুম।
ঈদের দিন সকাল থেকেই মহম্মদপুরের কাশিপুর গ্রামে মধুমতি নদীর পাড়ে শিশুদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। নতুন পোশাক পরে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো শিশুদের জন্য স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী কিছু খেলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে ‘চকলেট কুড়ানো’ এবং ‘বেলুন ফোটানো’ প্রতিযোগিতা।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, চকলেট মাটিতে পড়ার আগেই তা লুফে নিতে শিশুদের উচ্ছ্বাস আর হুড়োহুড়ি ছিল সত্যিই দেখার মতো। কার পকেটে কত বেশি চকলেট জমা হলো, তা নিয়ে তাদের মধ্যে চলে তুমুল প্রতিযোগিতা।

অন্যদিকে, রঙিন বেলুন ফুলিয়ে তা পায়ের চাপে কিংবা হাত দিয়ে ফোটানোর খেলায় মেতে ওঠে শিশুরা। একের পর এক বেলুন ফাটার শব্দ আর শিশুদের খিলখিল হাসিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শুধু শিশুরাই নয়, দূর থেকে দাঁড়িয়ে তাদের এই অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন অভিভাবকেরাও।
আলী রেজা নামে একজন অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাচ্চারা এখন সারাক্ষণ মোবাইল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকে। কিন্তু এবার ঈদে এই চকলেট কুড়ানো আর বেলুন ফোটানোর মতো গ্রামীণ ও জমকালো আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারা এবার সত্যিকারের ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারছে।
ঈদের এই বিশেষ আনন্দ নিয়ে শিশু রাফসান ও মাহিম জানায়, আমরা অনেক চকলেট কুড়িয়েছি। একসঙ্গে এত বেলুন ফোটানোর আনন্দ আগে কখনো পাইনি। এবারের ঈদটা আমাদের খুব শান্তিতে আর মজায় কাটছে।
মহম্মদপুরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিশুদের ঈদ আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যান্ত্রিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া শৈশবকে যেন মুহূর্তের জন্য হলেও ফিরিয়ে এনেছে কাশিপুর গ্রামবাসীর এই চমৎকার ঈদ আয়োজন।