তসলিম শিমুল
বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত আসরে কোনো কোনো দলকে শুধু গ্রুপ পর্ব খেলতেই হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত যাতায়াত খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, বিশ্রাম ও ম্যাচ প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপ চলাকালীন বিভিন্ন দল নানা ধরনের সমস্যারও মুখোমুখি হয়েছে। জার্মানির অনুশীলনে হঠাৎ একটি সাপ ঢুকে পড়ে। ইংল্যান্ড দলের ক্যাম্প থেকে কিছু খেলোয়াড়ের জুতা চুরির ঘটনাও ঘটে। ইরানকে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। আবার কয়েকটি দেশের ফুটবলারদের ভিসা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে দীর্ঘ সফর।
গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি সফর করছে যেসব দল
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: ৫,০৩৯ কিলোমিটার, আলজেরিয়া: ৪,৮৪০ কিলোমিটার, চেকিয়া: ৪,৫২৬ কিলোমিটার, ডিআর কঙ্গো: ৩,৬৫৮ কিলোমিটার, কানাডা: ৩,৩৫৯ কিলোমিটার।
ফেভারিট দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড: ২,৭৯৯ কিলোমিটার, জার্মানি: ২,৬৪৪ কিলোমিটার, স্পেন: ২,৩৬৭ কিলোমিটার, ব্রাজিল: ১,৭৭৬ কিলোমিটার, পর্তুগাল: ১,৫৫৭ কিলোমিটার, আর্জেন্টিনা: ৭৩১ কিলোমিটার, ফ্রান্স: ৫৬৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছে।
ফেভারিটদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। গ্রুপ পর্বে তাদের ভ্রমণ করতে হবে দুই হাজার ৭৯৯ কিলোমিটার। এরপর রয়েছে জার্মানি (২,৬৪৪ কিলোমিটার) এবং স্পেন (২,৩৬৭ কিলোমিটার)। ব্রাজিল ও পর্তুগালকেও দেড় হাজার কিলোমিটারের বেশি সফর করতে হবে।
অন্যদিকে গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স তুলনামূলকভাবে অনেক কম ভ্রমণ করছে। আর্জেন্টিনাকে মাত্র ৭৩১ কিলোমিটার, আর ফ্রান্সকে ৫৬৬ কিলোমিটার সফর করতে হবে। ফলে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অন্য অনেক দলের তুলনায় কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
বিশ্বকাপের মতো টানা ও উচ্চ-তীব্রতার টুর্নামেন্টে দীর্ঘ উড়োজাহাজযাত্রা খেলোয়াড়দের ক্লান্তি বাড়ায় এবং প্রস্তুতির সময় কমিয়ে দেয়। তাই শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, এবার বিশ্বকাপের সাফল্য-ব্যর্থতার পেছনে হাজার হাজার কিলোমিটারের সফরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক: ক্রীড়ালেখক