গোল্ডেন বুট! একটা সোনার জুতা। কিন্তু এই জুতার জন্য এখন লড়ছে ফুটবলের তিন যুগের তিন রাজা।
যেন একে অপরকে তাড়া করছেন তিন মহাতারকা। এক তারকা এক পা এগোলে, আরেকজন দুই পা। বিশ্বকাপের মঞ্চটা যেন হয়ে উঠেছে গোলের মহোৎসব।
১৬ জুন হ্যাটট্রিকের আগুনে পুড়লো সব হিসাব। সেদিন শুরুটা করেছিলেন দুই তরুণ বাঘ। কিলিয়ান এমবাপে- ঝড়ের গতিতে জোড়া গোল। আর্লিং হালান্ড- পাথরের মতো শক্তিতে জোড়া গোল। গোটা দুনিয়া ভাবলো, এই বুঝি এমবাপে-হালান্ড যুগ শুরু!
কিন্তু সেদিনই সব হিসাব ওলট-পালট করে দিলেন এক ‘বুড়ো জাদুকর’। লিওনেল মেসি। নামলেন, খেললেন, হ্যাটট্রিক করলেন। তিন গোল করলেন একাই। দুই তরুণের জোড়া গোলকে ম্লান করে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে গেলেন মেসি। প্রমাণ করলেন, অভিজ্ঞতা বয়স মানে না।
২২ জুন জবাব দিলেন তরুণেরা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসি আবার ঝলক দেখালেন। জোড়া গোল। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আবার লিড নিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে নাটকের অভাব হয় না। কিছুক্ষণ পরই মাঠে নামলেন এমবাপে। জোড়া গোল। তারপর হালান্ড। তিনিও করলেন জোড়া গোল।
যেন বলছেন, ‘বড় ভাই, আপনি একা না। আমরাও আছি!’
এখন স্কোরবোর্ড কী বলছে
মেসির পায়ে অভিজ্ঞতার ছোঁয়া। ১৬ তারিখের হ্যাটট্রিক + ২ তারিখের জোড়া গোল = ৫ গোল।
এমবাপের পায়ে বিদ্যুতের গতি। টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল = ৪ গোল।
হালান্ডের পায়ে পাথর ভাঙা শক্তি। ১৬ আর ২ তারিখে জোড়া গোল = ৪ গোল।
তিন রকম অস্ত্র, একটাই লক্ষ্য
মেসি: ঠান্ডা মাথা, নিখুঁত প্লেসমেন্ট। বয়স ৩৯, কিন্তু মগজ টনটনে।
এমবাপে: গতির ঝড়। ডিফেন্ডাররা ধরতে পারে না, ক্যামেরা ফোকাস করতে পারে না।
হালান্ড: শরীরটা একটা দেয়াল। একবার বল পায়ে পড়লে, গোলকিপারের কপালে ভাঁজ।
শেষ হাসি কার
ফুটবল দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন করছে, গোল্ডেন বুট কার হাতে উঠবে?
মেসি কি তার শেষ বিশ্বকাপে সোনার জুতা পায়ে নিয়ে বিদায় নেবেন? নাকি এমবাপে নিজের যুগের সূচনা করবেন? নাকি হালান্ড শক্তি দিয়ে সব রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেবেন?
অপেক্ষা শুধু সময়ের। সামনের ম্যাচগুলোতেই লেখা হবে ইতিহাস।
একটা কথা নিশ্চিত, এই ত্রিমুখী যুদ্ধ ২০২৬ বিশ্বকাপকে অমর করে রাখবে।