যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ইতিহাস কি ব্রাজিলের পক্ষেই বলছে!

তসলিম শিমুল

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন,২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ইতিহাস কি ব্রাজিলের পক্ষেই বলছে!

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের ফুটবল মানেই রেকর্ড, ঐতিহ্য এবং শিরোপা জয়ের গল্প। আর সেই ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায় আবারও আলোচনায় এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করে তিনি এমন এক তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, যেখানে থাকা আগের সব ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের শেষ পরিণতি ছিল বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলা।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে গোল করা কোনো সাধারণ অর্জন নয়। প্রতিপক্ষ, চাপ এবং প্রতিযোগিতার তীব্রতার কারণে এমন ধারাবাহিকতা খুব কম খেলোয়াড়ই ধরে রাখতে পারেন। ব্রাজিলের ইতিহাসে যারা এই কীর্তি গড়েছেন, তাদের প্রত্যেকেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ উদযাপন করেছেন।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে কিংবদন্তি জাইরজিনহো গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছিলেন। সেই আসরে পেলের নেতৃত্বে ব্রাজিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করে। জাইরজিনহো পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত খেলে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এরপর ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে একই কীর্তি গড়েন রোমারিও। তার গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা ব্রাজিলকে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আসনে ফিরিয়ে আনে। সেই আসরে রোমারিও ছিলেন দলের প্রধান তারকা।

২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো এবং রিভালদো গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক গোল করে ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে ভয়ঙ্কর শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। ফলাফলও ছিল একই- ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা। বিশেষ করে রোনালদো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের নাম অমর করে রাখেন।

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ঐতিহাসিক তালিকায় যোগ দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে তিনি শুধু নিজের সামর্থ্যের প্রমাণই দেননি, বরং ব্রাজিল সমর্থকদের মনে নতুন করে শিরোপা জয়ের আশা জাগিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে পরিচিত। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ধারাবাহিকতা তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ফুটবল অবশ্য কেবল পরিসংখ্যানের খেলা নয়। অতীতের রেকর্ড ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয় না। নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। একটি ভুল, একটি খারাপ দিন কিংবা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ পুরো সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তাই শুধু ভিনিসিয়ুসের গোলের ধারাবাহিকতা দেখেই ব্রাজিলকে নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন বলা যাবে না।

তবুও ইতিহাসের দিকে তাকালে ব্রাজিল সমর্থকদের আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ এর আগে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করা ব্রাজিলিয়ান তারকারা সবাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয় করেছেন। সেই হিসেবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন এমন এক ঐতিহ্যের অংশ, যা ব্রাজিলের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে আছে।

এখন দেখার বিষয়, ভিনিসিয়ুস কি তার পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করে ব্রাজিলকে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিতে পারেন, নাকি ২০২৬ সালে এসে ভেঙে যাবে সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। উত্তর মিলবে টুর্নামেন্টের শেষ দিনে। তবে আপাতত বলা যায়, ইতিহাসের একটি বড় অংশ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)