তসলিম শিমুল
চার বছর আগে বিশ্বকাপ চলার সময় কোটি কোটি কিশোরের মতো লামিনে ইয়ামালও ছিলেন একজন দর্শক। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের সঙ্গে টেলিভিশনের সামনে বসে প্রিয় খেলোয়াড়দের খেলা দেখতেন। হয়তো তখন তার মনেও প্রশ্ন জাগতো- একদিন কি আমিও এই মঞ্চে খেলবো?
সময়ের চাকা খুব দ্রুত ঘুরেছে। সেই কিশোর আজ স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম বড় ভরসা। ২০২৬ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই মাত্র ১০ মিনিটে গোল করে জানিয়ে দিলেন, তিনি শুধু ভবিষ্যতের নন, বর্তমানেরও তারকা।
প্রথম ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি শুরু থেকে। স্পেনও প্রত্যাশিত ফল পায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের আস্থা ফিরিয়ে দেন ইয়ামাল। অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওয়ারজাবালের দারুণ সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের স্বাদ পান। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
ম্যাচ শেষে ইয়ামালের কথায় ফুটে ওঠে এক তরুণের স্বপ্নপূরণের আবেগ। তিনি জানান, বিশ্বকাপে খেলা ছিল তার ছোটবেলার স্বপ্ন। চার বছর আগে তিনি বাড়িতে বসে বিশ্বকাপ দেখেছিলেন, আর এবার গ্যালারিতে বসে পরিবার দেখেছে তার খেলা। এই পরিবর্তনই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।
এই গোলের মাধ্যমে ইয়ামাল ইতিহাসেও নাম লিখিয়েছেন। বিশ্বকাপে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় কিংবদন্তি পেলের পর জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। বার্সেলোনায় নিজের প্রতিভার ঝলক দেখানোর পর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তরুণ এখন বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেছেন।
ইয়ামালের গল্প মনে করিয়ে দেয়, বড় স্বপ্ন দেখার জন্য বড় হওয়ার অপেক্ষা করতে হয় না। আজ যে কিশোর টেলিভিশনের সামনে বসে বিশ্বকাপ দেখছে, আগামী চার বছর পর হয়তো সেই-ই বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। লামিনে ইয়ামালের যাত্রা তাই শুধু একজন ফুটবলারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং সময়কে জয় করার এক অনুপ্রেরণার কাহিনি।