সমালোচনা, প্রশ্ন আর সংশয়ের জবাব দিলেন মাঠেই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে নানা আলোচনা চলছিল। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মত ছিল, পর্তুগালের শুরুর একাদশে তার জায়গা হওয়া উচিত নয়। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
ম্যাচের আগে একটি পরিসংখ্যানও আলোচনায় ছিল। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা দশ ম্যাচে গোল করতে পারেননি রোনালদো। বড় টুর্নামেন্টে ওই সময় তার অবদান ছিল মাত্র একটি অ্যাসিস্ট। সর্বশেষ গোল করেছিলেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে, পেনাল্টি থেকে। এরপর দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাননি তিনি।
তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রোনালদো। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করে ইতিহাস গড়েন তিনি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি এখন তার দখলে। এই রেকর্ড আপাতত অন্য কারও নাগালের বাইরে।
এরপর ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেন রোনালদো। বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আরও এগিয়ে যান তিনি। গোলের পর তার বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপনে মাতেন সতীর্থ ও সমর্থকরা।
শুধু গোল করেই নয়, দলের আক্রমণভাগ পরিচালনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। একটি ফ্রি-কিকের সুযোগ নিজে শট না নিয়ে তরুণ সতীর্থ নুনো মেন্দেসকে দায়িত্ব দেন। উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগ রোনালদোকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা করলেও তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সামনে তা কাজে আসেনি।
ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার সুযোগও পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সতীর্থকে সুযোগ করে দেন তিনি। যে রোনালদোকে অনেকেই ‘স্বার্থপর’ বলে সমালোচনা করেন, এই ম্যাচে তার আচরণ সেই ধারণারও ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
সমালোচনার মুখে থাকা এক ফুটবলারের এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো পর্তুগালের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি বিশ্বকাপের মঞ্চেও আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো।