২০১০ বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ২৩ বছরের এক তরুণকে ঘিরে ছিল কোটি মানুষের স্বপ্ন। নাম তার লিওনেল মেসি। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙেছেন, সুযোগ তৈরি করেছেন, শট নিয়েছেন একের পর এক। কিন্তু গোল যেন তার সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিল। পাঁচ ম্যাচ খেলেও গোলের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলের বিধ্বস্ত হার, আর নত মুখে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় আর্জেন্টিনার।
সেদিন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, মেসি কি সত্যিই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন?
১৬ বছর পর সেই প্রশ্নের উত্তর যেন বজ্রকণ্ঠে দিচ্ছেন একই মানুষ।
২০২৬ বিশ্বকাপ। বয়স এখন ৩৯। অথচ মাঠে তাকে দেখে মনে হচ্ছে সময় যেন তার কাছে হার মেনেছে। প্রথম দুই ম্যাচেই করেছেন ৫ গোল! গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে তিনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণ, বয়সের হিসাব, সবকিছুকেই যেন তুচ্ছ করে দিচ্ছেন নিজের জাদুকরী স্পর্শে।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে নিজেকে অমর করেছিলেন। আর ২০২৬-এ এসে দেখাচ্ছেন, কিংবদন্তিরা শুধু ইতিহাস লেখেন না, প্রয়োজনে ইতিহাস নতুন করে লিখতেও জানেন।
দুই বিশ্বকাপে দুই মেসি: পরিসংখ্যানের আয়নায়
২০১০ বিশ্বকাপ
ম্যাচ: ৫
গোল: ০
অ্যাসিস্ট: ১
খেলা মিনিট: ৪৫০
শট: ১৮
অন টার্গেট: ৮
২০২৬ বিশ্বকাপ
ম্যাচ: ২
গোল: ৫
অ্যাসিস্ট: ০
ম্যাচপ্রতি গোল: ২.৫
শট: ৭
অন টার্গেট: ৬
কনভার্সন রেট: ৭১.৪%
অবিশ্বাস্য বৈপরিত্য
২০১০ বিশ্বকাপে একটিও গোল পাননি। বিশ্বকাপে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২০১৪ পর্যন্ত। অথচ ২০২৬-এ প্রথম ম্যাচ থেকেই গোলের বন্যা।
বয়স
২০১০: ২৩ বছর, গোলশূন্য।
২০২৬: ৩৯ বছর, মাত্র ২ ম্যাচে ৫ গোল।
যাকে একদিন বিশ্বকাপে গোল না পাওয়ার জন্য সমালোচনা শুনতে হয়েছিল, আজ সেই মানুষই বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের আতশবাজি ছড়াচ্ছেন।
২০১০-এর হতাশা থেকে ২০২৬-এর উল্লাস- এটি শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়। এটি বিশ্বাস, অধ্যবসায়, প্রত্যাবর্তন আর মহত্ত্বের গল্প। কারণ কিংবদন্তিরা হারিয়ে যান না। তারা অপেক্ষা করেন। তারপর ফিরে আসেন আর পুরো পৃথিবীকে মনে করিয়ে দেন, কেন তারা সর্বকালের সেরা।