স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, কোচদের দিক থেকেও আর্জেন্টিনার প্রভাব স্পষ্ট। এবারের আসরে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের মধ্যে ছয়টি দলের প্রধান কোচই আর্জেন্টিনার। লিওনেল স্কালোনির বিশ্বকাপ জয়ে সাফল্যের পর আর্জেন্টাইন কোচিং স্কুলের প্রতি বিশ্বজুড়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে, আর তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর দায়িত্ব পালন করছেন আর্জেন্টিনা ছয় জন কোচ ও তাদের দল:
লিওনেল স্কালোনি: আর্জেন্টিনা
২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জেতান স্কালোনি। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে দল গঠন, কৌশলগত নমনীয়তা এবং খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ সামর্থ্য বের করে আনার দক্ষতার জন্য তিনি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে বিবেচিত।
মাউরিসিও পোচেত্তিনো: যুক্তরাষ্ট্র
টটেনহ্যাম, পিএসজি ও চেলসির মতো ক্লাবের সফল কোচ পোচেত্তিনো এখন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের দায়িত্বে। উচ্চ প্রেসিং, দ্রুত গতির আক্রমণ এবং আধুনিক ফুটবল দর্শনের জন্য তিনি পরিচিত। স্বাগতিক দেশের বড় স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে।
গুস্তাভো আলফারো: প্যারাগুয়ে
অভিজ্ঞ এই আর্জেন্টাইন কোচ শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রক্ষণভিত্তিক ফুটবলের জন্য পরিচিত। তার অধীনে প্যারাগুয়ে আবারও প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
নেস্তর লরেঞ্জো: কলম্বিয়া
দীর্ঘদিন হোসে পেকারম্যানের সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে লরেঞ্জোর। বর্তমানে তার নেতৃত্বে কলম্বিয়া আক্রমণাত্মক ও সংগঠিত ফুটবল খেলছে এবং বিশ্বকাপে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মার্সেলো বিয়েলসা: উরুগুয়ে
‘এল লোকো’ নামে পরিচিত বিয়েলসা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী কোচ। তার উচ্চ-তীব্রতার প্রেসিং, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং নতুন কৌশল প্রয়োগ বিশ্বজুড়ে বহু কোচকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার অধীনে উরুগুয়ে নতুন এক পরিচয়ে খেলছে।
সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে: ইকুয়েডর
বিয়েলসার শিষ্য এবং লিওনেল স্কালোনির সাবেক সহকারী বেকাসেসে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে সাহসী ও গতিময় ফুটবল খেলাতে বিশ্বাসী। তার অধীনে ইকুয়েডর ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে।
কেন আর্জেন্টাইন কোচদের এত চাহিদা?
আর্জেন্টিনার কোচিং দর্শন শুধু কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ, ম্যাচভেদে পরিকল্পনা বদলানোর সক্ষমতা এবং প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে তারা বিশেষ দক্ষ। মার্সেলো বিয়েলসা, সিজার লুইস মেনোত্তি, কার্লোস বিলার্দো কিংবা হোসে পেকারম্যানের মতো কিংবদন্তিদের উত্তরাধিকার আজও বিশ্ব ফুটবলে প্রভাব বিস্তার করছে।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শুধু শক্তিশালী একটি দলই নয়, কোচ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও অনন্য। ছয়টি ভিন্ন দেশের ডাগআউটে আর্জেন্টাইন কোচদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, বিশ্ব ফুটবলে তাদের প্রভাব এখন মাঠের ভেতরের মতোই মাঠের বাইরেও সমান শক্তিশালী। আজকের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শুধু নিজেদের হয়ে নয়, ছয়টি ভিন্ন পতাকার আড়াল থেকেও ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের দর্শন ও দক্ষতার প্রতিনিধিত্ব করছে।