স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপ মানেই বড় বড় তারকা, শক্তিধর দল আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। কিন্তু প্রতিটি বিশ্বকাপেই এমন একটি দল জন্ম দেয় নতুন গল্পের। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গল্পের নাম কেপ ভার্দে।
মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের ছোট্ট একটি দ্বীপরাষ্ট্র। নেই বিশ্বকাপের ঐতিহ্য, নেই তারকাখচিত স্কোয়াড। তবুও বিশ্বমঞ্চে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে তারা প্রমাণ করেছে, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
গ্রুপ ‘এইচ’-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে সবাইকে চমকে দেয় কেপ ভার্দে। অনেকে সেটিকে অঘটন ভেবেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে দুর্দান্ত লড়াই করে তারা বুঝিয়ে দেয়, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।
শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গেও ড্র করে টানা তিন ম্যাচে অপরাজিত থেকে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে কেপ ভার্দে। জয় না পেলেও, পরাজয়ও নেই। এই অপরাজিত পারফরম্যান্স এবং গ্রুপের সমীকরণে তারা গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্স-আপ হিসেবে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন, আর উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বেই।
‘দ্য ব্লু শার্কস’ নামে পরিচিত কেপ ভার্দে যেন সত্যিই সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে এসে ফুটবল বিশ্বের বড় বড় শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তাদের সংগঠিত রক্ষণ, নির্ভীক মানসিকতা এবং অসাধারণ দলগত ফুটবল বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কিন্তু রূপকথার আসল পরীক্ষা এখন। আগামী ৪ জুলাই ভোর ৩টায় (বাংলাদেশ সময়) রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
একদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেবারিট। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চ বারবার প্রমাণ করেছে, ইতিহাস কখনো শুধু শক্তিশালীদের জন্য লেখা হয় না; সাহসীরাও সেখানে নিজেদের নাম খোদাই করতে পারে।
স্পেনকে আটকে দেওয়া, উরুগুয়েকে রুখে দেওয়া এই কেপ ভার্দেকে তাই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আর্জেন্টিনাকেও নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে, কারণ এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অদম্য বিশ্বাস, হারার আগে হার না মানা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক রূপকথার জন্ম হয়েছে। এবার কি সেই তালিকায় যুক্ত হবে কেপ ভার্দের নাম? নাকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের স্বপ্নের ইতি টানবে, নাকি কেপ ভার্দের স্বপ্নের পরিসমাপ্তি হবে? ৪ জুলাই ভোর ৫টা নাগাদ মিলবে সেই উত্তর। তবে ফল যাই হোক, কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে ফুটবলের সৌন্দর্য শুধু ট্রফি জেতায় নয়, অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহসেও।
এখন অপেক্ষা, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘দ্য ব্লু শার্কস’ আরেকটি ইতিহাস লিখতে পারে কি না।