সুবর্ণভূমি ডেস্ক
জার্মানির ট্রাইব্রেকার নিয়ে অতি আত্মবিশ্বাস এভাবেই আটকে গেলো প্যারাগুয়ের পোস্টে! সেই সাথে নক আউটের প্রথম পর্বেই বিদায় নিতে হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
ছবি:
ওহ! অঘটন তাহলে শুরুই হয়ে গেলো। যার সূচনা হলো চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিট জার্মানিকে দিয়ে।
প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে রাউন্ড অব থার্টি টু থেকে বিদায় নিয়েছে তারা।
প্রথমে ৯০ মিনিট, এরপর আরও আধা ঘণ্টা মিলিয়ে দুই ঘণ্টার খেলা শেষ হয়েছিল ১–১ সমতায়। এরপর টাইব্রেকারে দুই দলের পাঁচটি করে শটও শেষ হয় ৩–৩ সমতায়। তবে সাডেন ডেথে জার্মানির জনাথন টাহ বল উড়িয়ে মারলেও মিস করেননি প্যারাগুয়ের হোসে কানালে।
তাতেই জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় জায়গা করেছে প্যারাগুয়ে।
১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা প্যারাগুয়ে মঙ্গলবার শুধু ম্যাচই জেতেনি, জার্মানির টাইব্রেকার–দাপটেও বড় আঁচড় কেটেছে। এবারের আগে বিশ্বকাপে চারবার টাইব্রেকারে খেলে একবারও হারেনি জার্মানি।
মঙ্গলবার জার্মানির সেই অপরাজেয় ধারা ভেঙে দেওয়ার পেছনে আসল নায়ক গোলকিপার অরলান্দো হিল। টাইব্রেকারে জার্মানির দুটি শট ঠেকিয়েছেন তিনি। এর আগে ম্যাচেও করেছেন ৬টি সেভ।
হিলের দেওয়াল হয়ে দাঁড়ানোর দিনে জার্মানির করার ছিল সামান্যই। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ঘণ্টাখানেকে।
বোস্টন স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে জার্মানি শুরু থেকে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথম গোলের দেখা পায় প্যারাগুয়ে। ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসোর করা সেই গোল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শোধ দেয় জার্মানি। ৫৪তম মিনিটে হেডে গোল করে ১–১ সমতা আনেন কাই হাভার্টজ।
এরপর জার্মানি আক্রমণের ধার বাড়ালেও প্যারাগুয়ে চলে যায় ‘আগে গোল ঠেকাও’ নীতিতে। হাভার্টজ, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎজ, লিরয় সানেদের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত হয় প্যারাগুয়ের দেয়ালে।

তবে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় সেই দেওয়াল ভেদই করে ফেলে জার্মানি। হেডে বল জালে পাঠান জনাথন টাহ। কিন্তু ওই হেডের আগমুহূর্তে ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ে গোলকিপারকে ফেলে দেওয়ায় ফাউলের দায়ে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ১২০ মিনিটের খেলা শেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
কখনো টাইব্রেকারে না হারায় জার্মানি হয়তো আত্মবিশ্বাসীই ছিল টাইব্রেকার লড়াই নিয়ে। কিন্তু প্রথম শট নিতে গিয়েই গড়বড় করে ফেলেন হাভার্টজ। তার বাঁ দিকের শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন প্যারাগুয়ে গোলকিপার হিল।
এরপর কিমিখ ও মুসিয়ালা লক্ষ্যে বল পাঠাতে পারলেও চতুর্থ শটে আবার মিস। এবার ভোল্টেমাডের শট ঠেকিয়ে দেন হিল। এদিকে প্যারাগুয়ে প্রথম তিন শট ঠিকঠাক নিলেও চতুর্থ শট মিস আর পঞ্চম শট ন্যয়ার প্রতিহত করলে ৩–৩ সমতা চলে আসে। তবে সাডেন ডেথে হোসে কানালের শট আর ন্যয়ার আটকাতে পারেননি।
আটকাতে পারেননি জার্মানির বিদায়ও। ২০১৪ বিশ্বকাপ জেতা জার্মানি গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর এবার দেশে ফিরছে প্রথম নকআউট খেলেই।
অপর দিকে ২০১০ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা প্যারাগুয়ে আরও একবার শেষ আটের পথে এগিয়ে গেছে। ফ্রান্স–সুইডেনের জয়ী দলের সঙ্গে শেষ ষোলোয় খেলবে তারা।