যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

প্যারাগুয়ে এমন দিন আর কবে পেয়েছে

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন,২০২৬, ০১:০৩ পিএম
প্যারাগুয়ে এমন দিন আর কবে পেয়েছে

বোস্টনে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটনটির জন্ম দিয়ে তখন কাঁদছিলেন প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা। সেই আনন্দাশ্রুর ঢেউ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের রাস্তায়ও।

বার্তা সংস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত স্থিরচিত্রগুলোতে ভেসে ওঠা মুখগুলোয় আনন্দ, বিহ্বলতা, বিস্ময় ও অবিশ্বাসের ভাষা পড়া যাচ্ছিল স্পষ্টভাবে।

এমন কিছু সত্যিই বিশ্বাস হওয়া কঠিন! প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হেরে জার্মানির বিদায়—এই খবর যেন জার্মানির সমর্থকদের চেয়ে লাতিন দেশটির দর্শকদের বেশি হতবাক করে রেখেছিল। একেই বুঝি বলে, ‘স্বপ্ন সত্যি হওয়া।’

তবে বোস্টনের বিকেলটিতে যা ঘটেছে, তা মোটেই স্বপ্ন নয়; বরং এ যেন বাস্তবতার চেয়েও বেশি কিছু। স্কটল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার প্যাট নেভিনের ভাষায় এটি প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি। টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় যাওয়ার যে আনন্দ, তার রেশ আরও অনেক দিন রয়ে যাবে।

এই ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে জার্মানি। কিন্তু কাজের কাজটা করতে পারেনি তারা। এর আগে গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সও ইতিবাচক বার্তা দিতে পারেনি চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। দুর্বল কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭–১ গোলে জিতলেও শেষ ম্যাচে হেরে যায় ইকুয়েডরের কাছে।

তবে জার্মানি যতই ম্লান সময় কাটাক, প্যারাগুয়ের কৃতিত্বকে ছোট করার সুযোগ নেই। নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়েই জার্মান–বধের মহাকাব্য লিখেছে লাতিন দেশটি। প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে জার্মানিকে টাইব্রেকারের হারানোর স্বাদ পেয়েছে তারা।

এমন জয়ের অনুভূতি যে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, ম্যাচ শেষে সেটিই বলেছেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার গুস্তাভ গোমেজ, ‘এই মুহূর্তে আমাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সতীর্থদের নিয়ে, পুরো দলকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। আমাদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকা প্রাপ্য ছিল। আমরা দল হিসেবে অসাধারণভাবে একতাবদ্ধ এবং মানসিকভাবে খুব শক্তিশালী।’

এই জয়কে প্যারাগুয়ের মানুষদের উৎসর্গ করে গোমেজ বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচে আমাদের দেখাতে হতো, প্যারাগুয়ে দল আসলে কী দিয়ে গড়া। জার্মানি জানত, তাদের জন্য ম্যাচটি সহজ হবে না। তারা জানত, আমরা হার এড়াতে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। এই লড়াই আর ফল আমরা প্যারাগুয়ের সব মানুষের জন্য উৎসর্গ করছি।’

অন্যদিকে বেদনাদায়ক বিদায়ের পর সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জার্মান তারকা কাই হাভার্টজ। তিনি বলেছেন, ‘আমার তেমন কিছুই বলার নেই। এটি আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ, আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো আমরা পরের পর্বে উঠতে পারলাম না। এ জন্য আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আমরা সবাই ভীষণ হতাশ। এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা ছিল। আবারও সমর্থকদের হতাশ করতে হলো, যা খুবই কষ্টের। তবে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’

কেন এমন ফল, সে প্রশ্নে হাভার্টজ বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিটি মুহূর্তে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে হয়। আমার মনে হয় না, আমরা খারাপ ফুটবল খেলেছি। কিন্তু প্রতিবারই যেন কোথাও না কোথাও কিছু একটা কমতি থেকে গেছে, আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমরা বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। এমন অবস্থায় যদি শুরুতেই বিদায় নিতে হয়, তাহলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার যোগ্যতা আমাদের ছিল না।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)