ফুটবল শুধু গোল-জয়ের খেলা নয়, এটি একটি জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি আর মূল্যবোধেরও প্রতিচ্ছবি। আর সেই জায়গায় জাপান যেন বিশ্বের সামনে এক অনন্য উদাহরণ।
স্টেডিয়ামে হাজারো সমর্থকের কণ্ঠে যখন গর্জে ওঠে জাপানের নাম, তখন তারা শুধু দলকে উৎসাহই দেন না, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর নিজেরাই গ্যালারির প্রতিটি কোণা পরিষ্কার করে তবেই বিদায় নেন। বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত এই অসাধারণ সংস্কৃতি আজ জাপানের পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে।
শুধু দর্শক নন, একই মূল্যবোধ ধারণ করেন জাপানের ফুটবলাররাও। ম্যাচ শেষ হলে ড্রেসিংরুম ঝকঝকে-পরিপাটি করে রেখে যান তারা। মাঠের বাইরের এই শৃঙ্খলা যেন মাঠের খেলাতেও প্রতিফলিত হয়। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত হাল না ছাড়া, সংগঠিত ফুটবল আর অদম্য লড়াই- এসবই জাপানকে বিশ্বকাপের অন্যতম ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে একের পর এক পরাশক্তিকে কাঁপিয়ে দেওয়া ‘জায়ান্ট কিলার’ জাপান এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।
এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখে প্রায় ইতিহাসই গড়ে ফেলেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত জয় ধরা না দিলেও, ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করতে একটুও ব্যর্থ হয়নি জাপান।
ম্যাচ শেষে আরেকবার দেখা গেল তাদের সাংস্কৃতিক উচ্চতা। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের সামনে গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন জাপানের ফুটবলাররা। কারণ তারা জানেন, মাঠে লড়াই করার শক্তির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এই দর্শকরাই।
হয়তো ট্রফি এখনো তাদের হাতে ওঠেনি। কিন্তু শৃঙ্খলা, বিনয়, সম্মানবোধ আর অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতায় জাপান ইতোমধ্যেই কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে চ্যাম্পিয়নের আসন দখল করে নিয়েছে। কে জানে, এমন মূল্যবোধ আর অধ্যবসায়ই হয়তো একদিন তাদের হাতে তুলে দেবে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি।