তসলিম শিমুল
চার বছর আগে নিজের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে অরল্যান্দো গিলকে বিক্রি করে দিতে হয়েছিল নিজের প্রায় সবকিছু। জামাকাপড়, জুতা, প্রিয় জার্সি- যা কিছু বিক্রি করা সম্ভব, সবই বিক্রি করতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তার কাছে ছিল শুধু এক জোড়া গোলকিপিং গ্লাভস। সেই গ্লাভসই একদিন হয়ে উঠবে পুরো জাতির গর্ব, তখন হয়তো তিনিও ভাবেননি।
তখন সদ্য জন্ম নিয়েছিল তার ছেলে, লাউতারো দানিয়েল। গুরুতর অসুস্থ শিশুটিকে বাঁচাতে হাসপাতালের বিল, সংসারের খরচ- সবকিছু মিলিয়ে জীবন হয়ে উঠেছিল অসহনীয়। নিজের স্বপ্ন, নিজের স্মৃতি- সবকিছুই একে একে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন গিল।
এমনকি ২০১৯ সালের দক্ষিণ আমেরিকা অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে প্যারাগুয়ের হয়ে খেলার সেই স্মৃতিময় জার্সিটিও। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্বও পরিবারের প্রয়োজনে বিসর্জন দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করেননি তিনি।
যিনি একদিন নিজের পরিবারকে বাঁচাতে সবকিছু হারিয়েছিলেন, আজ তিনিই প্যারাগুয়েকে বাঁচানোর নায়ক। কাই হাভার্টজের পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন, আরও একটি নিশ্চিত গোল রুখে দিয়েছেন। ছয় ফুট ছয় ইঞ্চির এই গোলরক্ষক যেন নিজের উচ্চতার মতোই উঁচুতে তুলে ধরেছেন দেশের স্বপ্নকে। যার জীবনটাই সংগ্রামের, তার কাছে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।
আর এটাই হয়তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। এখানে শুধু ট্রফির জন্য লড়াই হয় না, জন্ম নেয় মানুষের জয়ের গল্প। কখনও রাজমিস্ত্রির ছেলে ইসমায়েল সাইবেরি হয়ে ওঠেন জাতির নায়ক, কখনও সব হারিয়ে ফেলা অরল্যান্দো গিল হয়ে ওঠেন পুরো দেশের শেষ ভরসা।
৯০ মিনিটের ফুটবল শেষ হয়ে যায়, কিন্তু এমন গল্পগুলো বেঁচে থাকে বহু বছর। কারণ বিশ্বকাপ শুধু চ্যাম্পিয়ন বানায় না, পৃথিবীকে নতুন নতুন নায়কের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়।