তসলিম শিমুল
কিলিয়ান এমবাপ্পের পায়ে বল আসতে দেরি হতে পারে, কিন্তু শট নিতে দেরি নেই একটুও। বলটা পায়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই যেন চোখের পলকে সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্তের বেশির ভাগই প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্ন। তার নেওয়া প্রায় প্রতিটি শটই থাকে বিপজ্জনক, গোলের সম্ভাবনা তৈরি করে। কখনো পোস্টে লেগে ফিরে আসে, কখনো ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলায়, আবার কখনো গোলকিপার অসাধারণ সেভ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে ঠিকই নিজের জাদুকরী ফিনিশিং দিয়ে ম্যাচে ছাপ রেখে যান।
বিশ্বকাপে আগের ম্যাচে গোল করে আর্লিং হালান্ড পাঁচ গোল নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু বর্তমান ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন কিলিয়ান এমবাপ্পে কি চুপ করে বসে থাকবেন? সুইডেনের শক্ত রক্ষণ আর দুর্দান্ত গোলকিপারকে বারবার পরীক্ষা নেওয়ার পর অবশেষে সেই কাক্সিক্ষত মুহূর্ত এলো। নিজের স্বভাবসুলভ গতি, নিখুঁত টাইমিং আর ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দিলেন তিনি।
এই গোলের মধ্য দিয়েই এমবাপ্পে গড়লেন নতুন ইতিহাস। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তি অর্জন করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও এখন তার দখলে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই সব অর্জন এসেছে মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপে, আর বয়স এখনো মাত্র ২৭ বছর।
যদি তিনি আরও দুটি বিশ্বকাপ খেলতে পারেন এবং নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও হয়তো তার নাগালে চলে আসবে। এমন এক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন, যেখানে ভবিষ্যতের ফুটবলারদের জন্য সেই রেকর্ড ছোঁয়াটাই হয়ে উঠবে বিশাল এক স্বপ্ন।
এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তার গতি নয়। বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার সাহস, চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকা, আর দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চ যেন তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। যত বড় ম্যাচ, তত বেশি উজ্জ্বল এমবাপ্পে।
তবুও একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে। আধুনিক ফুটবলের এই বিস্ময়কর তারকা এখনো জিততে পারেননি ব্যালন ডি’অর। বিশ্বকাপ, ক্লাব ফুটবল, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স- সব মিলিয়ে তিনি বহুবার প্রমাণ করেছেন নিজের সামর্থ্য। তাই ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশের বিশ্বাস, এই সম্মান তার প্রাপ্য ছিল অনেক আগেই।
তবে এমবাপ্পের পথ এখনো শেষ হয়নি। বয়স, সামর্থ্য আর ক্ষুধা- সবকিছুই তার পক্ষে। তাই ফুটবল বিশ্ব হয়তো এখনো তার সেরা অধ্যায়গুলো দেখাই শুরু করেনি। ভবিষ্যতে আরও কত রেকর্ড ভাঙবেন, কত নতুন ইতিহাস লিখবেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।