স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। রাউন্ড অফ থার্টি টু-এর সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ লড়াইয়ে লুমেন ফিল্ডে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের জায়ান্ট বেলজিয়াম এবং আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে এই ম্যাচ।
এই ম্যাচের বিজয়ী পৌঁছে যাবে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে, আর হেরে যাওয়া দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ।
গ্রুপ স্টেজের ফল: দুই ভিন্ন পথে নকআউটে
বেলজিয়াম: ধুঁকে ধুঁকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন
রেড ডেভিলসরা গ্রুপ এ থেকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে উঠেছে। তবে পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। মিশরের সঙ্গে ১-১ ড্র এবং ইরানের বিপক্ষে ০-০ গোলশূন্য ম্যাচের পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে দলটি।
মাত্র ২ গোল হজম করা বেলজিয়ামের ডিফেন্স এখনো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। কেভিন ডি ব্রুইন, জেরেমি ডোকু ও থিবো কোর্তোয়ার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা এবারই শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাচ্ছেন। কোচ রুডি গার্সিয়া জানিয়েছেন, এই প্রথমবার তার ফুল স্কোয়াড ফিট।
সেনেগাল: শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন
টেরাঙ্গা লায়নসদের যাত্রা আরও নাটকীয়। গ্রুপ ও-এ ফ্রান্সের কাছে ১-৩ এবং নরওয়ের কাছে ২-৩ গোলে হেরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সেনেগাল। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে গোল পার্থক্যে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে তারা।
সাদিও মানে, ইসমাইল ও ইলিমানের গতিতে ভর করে গ্রুপ পর্বে ৮ গোল করেছে সেনেগাল। তবে ডিফেন্সে ৬ গোল হজম এবং গোলকিপার এদুয়ার মেন্ডির অনুপস্থিতি তাদের বড় দুশ্চিন্তা।
মাঠের লড়াই: পজেশন বনাম পেস
ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে ম্যাচটি হবে দুই বিপরীতমুখী দর্শনের লড়াই। বেলজিয়াম ডি ব্রুইনের পায়ে বল রেখে ধৈর্য ধরে আক্রমণ করবে। উইং দিয়ে ডোকুর ড্রিবলিং হবে প্রধান অস্ত্র।
অন্যদিকে সেনেগাল বেলজিয়ামকে বল ছেড়ে দিয়ে কাউন্টার-অ্যাটাকে যাবে। মানে ও ইসমাইলের পেস বেলজিয়ামের ডিফেন্সের জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে বেলজিয়ামের বাঁ-দিকের ডিফেন্স সামলাতে হবে সেনেগালের গতির ঝড়।
দুই দলই মেজর টুর্নামেন্টে আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি। তাই পরিসংখ্যানের বদলে বর্তমান ফর্মই হবে একমাত্র মানদণ্ড।
বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া বলেছেন, ‘নকআউট ম্যাচে ফেভারিট হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে ব্যবহার করাই হতে পারে সেনেগালের ডিফেন্স ভাঙার চাবিকাঠি, বলছেন কোচ।
তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, ম্যাচটি ৯০ মিনিটে নিষ্পত্তি নাও হতে পারে। বেলজিয়ামের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াড ডেপথ তাদের সামান্য এগিয়ে রাখছে। তবে সেনেগালের শেষ ম্যাচের ৫-০ জয়ের আত্মবিশ্বাসকে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
বেলজিয়ামের গোল্ডেন জেনারেশন শেষ হাসি হাসতে পারবে, নাকি সেনেগালের গতি থামিয়ে দেবে ইউরোপের এই জায়ান্টকে? উত্তর মিলবে সিয়াটলে।