যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বালোগানের লাল কার্ড টেনে আনলো মেসিকে, তুমুল বিতর্ক

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই,২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই,২০২৬, ০৪:০০ পিএম
বালোগানের লাল কার্ড টেনে আনলো মেসিকে, তুমুল বিতর্ক

হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে ৪৫ মিনিটে গোল করার পর ৬৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগান। ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের এ সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপের ধারাভাষ্যকার ও ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রায় একই ধরনের ঘটনায় লিওনেল মেসি কেন একই শাস্তি পেলেন না?

ম্যাচে তখন ৬২ মিনিট। বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে বল দখলের লড়াই একটু পেছনে পড়েন বালোগান। দৌড়ের সময় মুহারেমোভিচ চলে যান সামনে।

বল বসনিয়ান ডিফেন্ডারের সামনে পড়লে বাঁ পায়ের শটে তিনি ক্লিয়ার করেন। কিন্তু সে মুহূর্তে বালোগান পেছন থেকে তাকে বাধা দিতে গিয়ে ডান পা দিয়ে মুহারেমোভিচের ডান পায়ের গোড়ালির পেছনের অংশ মাড়িয়ে দেন।

রেফারি ক্লাউস শুরুতে ফাউলের বাঁশি বাজানো দূরের কথা, ফ্রি-কিকও দেননি। দুই খেলোয়াড়ই চোট পেয়ে মাঠে পড়ে থাকলে খেলা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে।

তখনই ভিএআর কর্মকর্তারা ক্লাউসকে মাঠের পাশে মনিটরটি দেখার পরামর্শ দেন। সেখানে ঘটনার ভিডিও রিপ্লে দেখে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

মেসিকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছিল আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে। আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে তার পায়ের পেছনের অংশ মাড়িয়ে দেন মেসি।

আলজেরিয়ার খেলোয়াড়েরা তখন মেসিকে লাল কার্ড দেখানোর দাবি জানান। কিন্তু পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি।

বালোগান লাল কার্ড দেখার পর মেসির সেই ঘটনা টেনে বিবিসিতে ধারাভাষ্য দেওয়া ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড বলেন, ‘ঠিক এই জায়গাগুলোতে মানুষ ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সবাই নিয়মের একই প্রয়োগ দেখতে চায়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির সেই ট্যাকল আমাদের সবার মনে আছে।

অনেকেরই ধারণা, ওটা সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল, অথচ সেটি ঠিকঠাক খতিয়ে দেখা হলো না, কোনো শাস্তিও দেওয়া হলো না। আর এখন বালোগানের ট্যাকলটা দেখুন—ভিএআর মাঝে নাক গলাল, রেফারি মনিটর দেখতে গেলেন এবং আচমকাই সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে দেওয়া হলো।

এই যে আলাদা নিয়ম, এটাই খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করে।’

বিবিসির হয়ে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় ইংল্যান্ড নারী ফুটবল দলের সাবেক স্ট্রাইকার সু স্মিথ ঘটনাটি নিয়ে বলেন, ‘রিপ্লে দেখার সময় ফ্রেমটা যখন আটকে রাখা হয়, তখন আপনার মনে হতেই পারে, এটা শতভাগ লাল কার্ড পাওয়ার মতোই অপরাধ।

কিন্তু স্বাভাবিক গতিতে দেখলে সিদ্ধান্তটা বড্ড বেশির কঠোর মনে হবে।’ স্মিথ ব্যাখ্যা করেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত তার পা-টা ভুল জায়গায় পড়ে গেছে।’

বিশ্বকাপের ধারাভাষ্যকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসিও লাল কার্ডের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

তার ভাষায়, ‘মাঠের খেলা নিয়ে কথা বলার বদলে এখন আমাদের রেফারিদের নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে বড্ড বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিয়ান বালোগান এমন কোনো অপরাধ করেনি, যার জন্য ওকে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে হবে।

এত বড় একটা ম্যাচে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে, যা পরে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও দাবি করেন, লাল কার্ড দেখার মতো অপরাধ করেননি বালোগান, ‘এটা কখনোই লাল কার্ড হতে পারে না। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্যই ওর ছিল না।’

মেসির একই রকম ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল পচেত্তিনোকে। তার দাবি, ‘দুটির কোনোটিই লাল কার্ড পাওয়ার মতো ফাউল ছিল না।’

শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না বালোগান।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)