সুবর্ণভূমি ডেস্ক
পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখল আর্জেন্টিনা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ ১৩ মিনিটের দুর্দান্ত ঝড়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
দুই গোলে এগিয়ে থেকে জয়ের স্বপ্নই বুনেছিল মিসর। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসে সেই সম্ভাবনা জোরালোও হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। রোমাঞ্চ শেষে পাঁচ গোলের থ্রিলারে মিসরকে পরাস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত মিসরীয় শিবিরে ছিল আনন্দের ঢেউ, আর আকাশী নীল-সাদা শিবিরের আকাশে ছিল দুশ্চিন্তার ঘনঘটা। কিন্তু লড়াইয়ের শেষ দিকে চিত্রনাট্য পুরোপুরি উল্টে যায়। মেসির আর্জেন্টিনা মাতে জয়োৎসবে; আর জানপ্রাণ দিয়ে লড়েও শেষ মুহূর্তে হাতের মুঠোয় থাকা জয় হাতছাড়া হওয়ায় চোখের জলে মাঠ ছাড়েন মোহাম্মদ সালাহরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফেভারিট আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চেপে ধরে মিসর। প্রতি-আক্রমণভিত্তিক চমৎকার এক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে ফারাওরা। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন মিসরের ইয়াসের ইব্রাহিম। দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মিসরের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হচ্ছিল। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিসর।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে ৬৭ মিনিটে আবারও গোল হজম করে বসে স্কালোনির শিষ্যরা। মিসরের মোস্তফা জিকো চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করলে জার্মানি ও ব্রাজিলের মতো টুর্নামেন্ট থেকে আর্জেন্টিনারও বিদায়ঘণ্টা বাজার শঙ্কা জাগে।
যখন মনে হচ্ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই নিজেদের চেনা রূপে ফেরে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই গঞ্জালো মন্তিয়েলের অ্যাসিস্ট থেকে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে নিজের জাদুকরী বাঁ-পায়ের শটে বল জালে জড়ান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্টেডিয়ামে তখন উল্লাসের জোয়ার, ম্যাচে ফেরে ২-২ সমতা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে (৯০+২ মিনিটে) মিসরীয় ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
মিসরের বিপক্ষে এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হলো। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড অথবা কলম্বিয়ার।