স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনায় এখন শুধু লিওনেল মেসি বা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে না। সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর একটি সিদ্ধান্ত। ফুটবলপাগল আর্জেন্টিনার বিশ্বাস-সংস্কৃতি বা ‘কাবালা’ ভাঙতে রাজি নন তিনি। তাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার সুযোগ থাকলেও বিশ্বকাপের ফাইনাল মাঠে বসে দেখবেন না আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপ্রধান।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার স্পেনের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নামছে। জিততে পারলে ব্রাজিল ও ইতালির কীর্তির পাশে নিজেদের নাম লেখাবে আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। এমন মহারণে বিশ্বের অসংখ্য রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি থাকলেও ব্যতিক্রম থাকছেন মিলেই।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পুরো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ তিনি রাজধানীর সরকারি বাসভবন ওলিভোস থেকেই দেখেছেন। সাত ম্যাচেই জয় পেয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। তাই ফাইনালের আগে সেই অভ্যাস বদলাতে চান না তিনি। তার বিশ্বাস, যে নিয়মে দলকে এত দূর পর্যন্ত সফল হতে দেখেছেন, সেটি পরিবর্তন করার কোনো প্রয়োজন নেই।
শুধু ম্যাচ দেখার স্থানই নয়, নিজের পোশাক নিয়েও কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ঠান্ডার কারণে একটি ভারী জ্যাকেট পরেছিলেন। পরে গরম লাগায় জ্যাকেট খুলে ফেলতেই আর্জেন্টিনা গোল হজম করে। এরপর আবার জ্যাকেটটি পরার কিছুক্ষণ পরই সমতায় ফেরে দল এবং শেষ পর্যন্ত জয় পায়। সেই ঘটনার পর থেকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে একই জ্যাকেট পরে প্রতিটি ম্যাচ দেখছেন তিনি। ফাইনালেও এর ব্যতিক্রম হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে স্টেডিয়ামে বসে ফাইনাল দেখার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে মিলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই মাঠে যাবেন না; নিজের সৌভাগ্যের রুটিনই অনুসরণ করবেন।
আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে ‘কাবালা’ বা সৌভাগ্যের নানা রীতি বহু পুরনো। কেউ প্রতিটি ম্যাচে একই পোশাক পরেন, কেউ পুরো টুর্নামেন্টে নিজের জার্সি ধোয়া থেকে বিরত থাকেন। আবার অনেকেই নির্দিষ্ট জায়গায় বসে খেলা দেখেন কিংবা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ম্যাচ উপভোগ করেন। এবারের বিশ্বকাপেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে কয়েকজন সমর্থক বাইবেল পাঠ শুরু করার পরই আর্জেন্টিনা গোল করে। এরপর থেকে তারা প্রতিটি ম্যাচেই একই রীতি অনুসরণ করছেন।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যেও এমন কুসংস্কারের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম উদ্বোধনী ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর অনেক সমর্থক তাকে ‘অপয়া’ হিসেবে আখ্যা দেন। সেই ঘটনার পর থেকে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টদের স্টেডিয়ামে উপস্থিত না থাকার এক অলিখিত প্রথা গড়ে ওঠে। হাভিয়ের মিলেইও এবার সেই ধারাই বজায় রাখছেন।
এখন দেখার বিষয়, প্রেসিডেন্টের এই ‘কাবালা’ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়। আর্জেন্টিনা কি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে নতুন ইতিহাস গড়বে, নাকি স্পেন ফিরবে বিশ্বফুটবলের সিংহাসনে? উত্তর মিলবে ফাইনাল ম্যাচে।