যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোর শিক্ষাবোর্ড

উত্তরপত্র ভুল মূল্যায়নে শাস্তির মুখে দেড় সহস্রাধিক পরীক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:০০ এ এম
উত্তরপত্র ভুল মূল্যায়নে শাস্তির মুখে দেড় সহস্রাধিক পরীক্ষক

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেড় সহস্রাধিক প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক শাস্তির আওতায় আসছেন। এসব পরীক্ষককে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ থেকে বিরত রাখা, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে না দেওয়াসহ নানা শাস্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এসব পরীক্ষকের ভুল মূল্যায়নে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী।

যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ২৮ হাজার ৮৬২ জন শিক্ষার্থী ২৫টি বিষয়ে ৭৪ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।

পুনর্নিরীক্ষণের পর দুই হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে আগে অকৃতকার্য ৩৮০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। গ্রেড পরিবর্তন হয় এক হাজার ৩০৪ জনের। নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

ফল পরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র পর্যালোচনা করে দেড় সহস্রাধিক প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে শনাক্ত করে বোর্ড। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ভুল করা পরীক্ষকদের আগামী দুই বছর এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

অন্যান্য শাস্তি যেমন প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ থেকে বিরত রাখা ইত্যাদি বিষয়েও আলোচনা চলছে জানিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে সেসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রক্রিয়াকরণে ভুলের ঘটনায় পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর ২৯০ জন পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। ওএমআর শিট পূরণ, নম্বর গণনা ও মূল্যায়নসংক্রান্ত ভুলের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

ওই বছর জেএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য দশ হাজার ৭৪৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। যাচাইয়ের পর ১৫৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়। তাদের মধ্যে ৫৪ জন অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হয় এবং ৮৩ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পায়।

২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর ৬০ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ওই বছর মাত্র তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।

ফল পরিবর্তনের ঘটনায় ১৯ জন পরীক্ষককে শনাক্ত করে পরবর্তী দুই বছর উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নেয় বোর্ড।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের সময়ও উত্তরপত্রে ভুল ধরা পড়ে। অনেক উত্তরপত্রে ভেতরের পৃষ্ঠায় দেওয়া নম্বর মূল পাতায় সঠিকভাবে যোগ না করার ঘটনা শনাক্ত হয়।

এ ঘটনায় ৭২ জন পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করে অন্তত এক বছরের জন্য উত্তরপত্র মূল্যায়ন থেকে বিরত রাখা হয়।

পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় সাধারণত পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হয় না। প্রতিটি প্রশ্নে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, ভেতরের পাতার নম্বর সঠিকভাবে যোগ করা হয়েছে কি না, সেই নম্বর মূল পাতায় ঠিকভাবে তোলা হয়েছে কি না, ওএমআর শিটে নম্বর যথাযথভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না এবং কম্পিউটার ডাটা এন্ট্রিতে কোনো ভুল হয়েছে কি না- এসব বিষয় যাচাই করা হয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)