যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

১৪৫ বছরের নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ছাদে ফাটল দেয়ালে ধস, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

তারেক মাহমুদ

, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

প্রকাশ : সোমবার, ১২ অক্টোবর,২০২৬, ১০:০০ এ এম
আপডেট : রবিবার, ১১ অক্টোবর,২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ছাদে ফাটল দেয়ালে ধস, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

সময় গড়িয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, বদলায়নি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠার ১৪৫ বছরে ভবনগুলো আরও জীর্ণ হয়েছে, বেড়েছে ঝুঁকি। ছাদের অধিকাংশ স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা। দেয়াল থেকে বেরিয়ে পড়েছে রড, ভেঙে গেছে দরজা-জানালা। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ছাদে বিছিয়ে রাখতে হয় পলিথিন। তাতেও রক্ষা হয় না। পানি পড়ে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বইখাতা, জামাকাপড়।

এভাবেই ঝুঁকি আর আতঙ্ককে সঙ্গী করে ক্লাস করছে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

শুধু বৃষ্টি নয়, তীব্র গরমেও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। যে কোনো সময় ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়তে পারে। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় স্টোররুমেও পাঠদান করাতে হচ্ছে শিক্ষকদের। ভাঙা বোর্ড থাকায় ক্লাস নিতে ও লিখতে সমস্যায় পড়তে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের মাঠেও জমে থাকে পানি। ফলে বন্ধ থাকে খেলাধুলা। অনেক সময় নিয়মিত অ্যাসেম্বলিও করা যায় না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরাও। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝুঁকি বিবেচনায় অনেক সময় সন্তানদের বিদ্যালয়ে যেতে নিষেধ করেন। ভয়ে অনেকে স্কুলে আসতেও চায় না। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৮১ সালে ৭৪ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাকাডেমিক ভবন বরাদ্দ পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৮০ সালে একটি বিজ্ঞান ভবন এবং ১৯৯৭ সালে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ থেকে আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে সেই ভবন দুটিও এখন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন ভবনের জন্য শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান। বিদ্যালয়ে পাঠদান কক্ষ, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, সহকারী শিক্ষকদের কক্ষ ও অফিসসহ মোট ১১ কক্ষ রয়েছে। তবে অধিকাংশ কক্ষেরই বেহাল দশা। 

শিক্ষার্থী সেঁজুতি বলে, ‘আমরা অনেক ঝুঁকি আর ভয় নিয়ে ক্লাস করি। মাঝে মাঝে ছাদ থেকে বালু-খোয়া পড়ে শরীরে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। আমাদের বিদ্যালয়ের অবস্থা খুব খারাপ। আমরা নিরাপদ ভবন চাই।’

শিক্ষার্থীর অভিভাবক রানা হাসান বলেন, ‘১৪৫ বছরের বিদ্যালয়টির অবস্থা খুবই খারাপ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস করছে। নতুন ভবন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’ 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকুল হোসেন বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই টিনশেড ঘরসহ ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ। একটি অ্যাকাডেমি ভবনের জন্য দীর্ঘদিন বিভিন্ন মহলে আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। টিনশেড ঘরটিও যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। বিদ্যালয়ে নতুন ভবন বরাদ্দ এখন অত্যন্ত জরুরি।’

ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ‘যে সমস্ত বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ আছে সেগুলো আমাদের নজরে আছে। ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন। আশা করছি, অতিদ্রুতই বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর স্থানে নতুন ভবন তৈরি হবে।’

 

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)