কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে সার-বীজ মনিটরিং কমিটির বিরুদ্ধে সার ডিলার নিয়োগে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা ভেঙে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী ও শিক্ষক পরিবারকে ডিলারশিপ প্রদান করায় চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পর ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোনীতদের রাজনৈতিক পরিচিতি ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিবেশ।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, সার ডিলার নিয়োগের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক/কর্মচারী কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের নিকটাত্মীয় ডিলারশিপের অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। অথচ হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে সালেহা বেগম মহিলা কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক আনিচুরের স্ত্রী আনোয়ারা নাসরিনকে (যার মেয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) ডিলারশিপ প্রদান করা হয়েছে, যা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এছাড়া মনোনীত অধিকাংশ ডিলারের নিজস্ব কোনো উপযুক্ত সারের গুদাম বা ব্যাংকিং স্বচ্ছলতা নেই। ভুয়া ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও তথ্য দিয়ে এ তালিকা প্রস্তুতের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের আমির হোসেনের নিজস্ব কোনো গুদাম ও আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পাগলাকানাই ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়া রাকিব হাসান বন্ধন সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করেছেন ইবি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ। কালীগঞ্জ উপজেলা রায়গ্রাম ইউনিয়নের জন্য বিএনপি নেতা ইসরাইল হোসেন জীবনকে ডিরার নিয়োগ করা হলেও তার নিজস্ব কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। একইভাবে কালীগঞ্জে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন মিশু রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী হলেও তাকে শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে সার ডিলার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। মিশু জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের চাচাতো শ্যালক। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের ভাই আব্দুল লতিফ এবং জোড়াদহ ইউনিয়নে ওএমএস ডিলার লাল্টু মিয়া ডিলারশিপ পেয়েছেন।
মহেশপুর উপজেলা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাসানের ভাই ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার শ্যালক এহসান রেজা, পৌর এলাকায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমান বুল্লা, যাদবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী পরিবারের সদস্য সবুর খান এবং বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে শাকিল রিয়াজ শুভর নাম রয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে জেলা বিএনপি সভাপতির শ্যালকের স্ত্রী সুরমা হাসানকে ডিলার করা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে জেলা বিএনপি সভাপতির কর্মচারী আনোয়ার হোসেনকে ডিলার করা হয়েছে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির হোসেন উদ্দীন বিশ্বাস আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমার কাছে পাঁচ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন কিন্তু এখন দেখছি সেখানে কেউ নেই। তালিকা দেওয়া সবাই নৌকার তলে চাপা পড়েছে।’
স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, ‘আমার শ্যালক নিজে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল পদে রয়েছে, তাই সে আওয়ামী পরিবারের সদস্য—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, ‘আমার কাছে কোনো সার ডিলারের চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট পৌঁছায়নি।’
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি নোমান হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।