যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সুন্দরবনের গা-ঘেঁষে অবৈধ বরফকল

এম জুবায়ের মাহমুদ

, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)

প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ মে,২০২৬, ০১:০০ পিএম
সুন্দরবনের গা-ঘেঁষে অবৈধ বরফকল

সুন্দরবনের একেবারে কোল ঘেঁষে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের চৌদ্দরশী ব্রিজের ২০০ গজ পূর্বপাশ এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশাল বরফকল। প্রতিদিন এখান থেকে কয়েকশ’ পিস বরফ সুন্দরবনে সরবরাহ ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

অথচ সুন্দরবনের দশ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যেকোনো ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারি এই বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি চালিয়ে যাচ্ছেন এই অবৈধ বাণিজ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাবুরা এলাকার প্রভাবশালী মুকুল হোসেন কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই এই বরফকলটি স্থাপন করেছেন। সুন্দরবনের চারপাশের দশ কিলোমিটার এলাকাকে সরকার ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করলেও, বনের সীমানা থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে এই কারখানা চলায় হুমকিতে পড়েছে বনের বাস্তুসংস্থান।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানাটিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, লবণাক্ত পানি এবং অ্যামোনিয়া বা ফ্রিওনের মতো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি পার্শ্ববর্তী নদীতে গিয়ে পড়ছে।

এসব কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে আশপাশের সাধারণ মানুষের চোখ জ্বালা, চোখ লাল হওয়া, নাক–গলা জ্বালা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বেড়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব ও ফুসফুসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তরিকুল ইসলাম।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি না থাকলেও রহস্যজনকভাবে এই বরফকলটি বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংযোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো শিল্পকারখানা চালুর আগে পরিবেশ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও এখানে তার কোনো বালাই নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

আব্দুল আহাদ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দিনের পর দিন এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলেও জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসন—কেউ কিছু বলছে না।

আব্দুল্লাহ আল কাদির নামের স্থানীয় কালেজ শিক্ষার্থী জানান, কয়েক মাস আগে বুড়িগোয়ালিনী থেকে বনবিভাগের লোকজন আসছিল। তাদের কিছু টাকা পয়সা দিয়ে মুখ বন্ধ করে। শুনেছি, তাদের মাসে মাসে টাকা দিয়ে বরফকল চালায়।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী, ইসিএ এলাকায় এমন কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না, যা পানি, বায়ু বা মাটির ক্ষতি করে। কিন্তু বনের এত কাছে শব্দদূষণ ও বর্জ্য নিঃসরণকারী এই কারখানা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদীরা।

এ বিষয়ে মুকুল হোসেনের কাছে সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কীভাবে বরফকল তৈরি করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করেছি বিভিন্নভাবে।’ পরিবেশের ছাড়পত্র আছে কি না জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাছিদুল আলম বলেন, বিষয়টি কখনো এভাবে ভাবা হয়নি। কেউ আমাকে জানায়ওনি, এজন্য ওভাবে চলছে।

দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু বলেন, গাবুরায় অসাধু ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের সুবিধার্থে বরফকল নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ শিকার করে দ্রুত বরফ দিয়ে বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করা যায়। সুন্দরবনের পাশে বা নদীর পাশে বরফকল তৈরির কারণে সেখানকার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক জিয়াউল হক বলেন, ওটা আগের সংযোগ। তারপরও বিষয়টি দেখছি।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। এখনই দেখছি।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুন্নাহার কনককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)