যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

হঠাৎ দরপতনে হতাশায় ‘করলা গ্রামের’ চাষিরা

বিশেষ প্রতিনিধি

, যশোর

প্রকাশ : শনিবার, ২০ জুন,২০২৬, ১০:০০ এ এম
হঠাৎ দরপতনে হতাশায় ‘করলা গ্রামের’ চাষিরা

তিন-চার সপ্তাহের ব্যবধানে করলার দাম মণপ্রতি ২২শ’ থেকে নেমে পাঁচ-ছয়শ’ টাকা আসায় সমূহ ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ‘করলা গ্রাম’ নামে পরিচিত যশোরের নোঙরপুরের চাষিরা। বাম্পার ফলনের পরও হাসি নেই চাষিদের মুখে।

কৃষকরা বলছেন, সারের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিক আর পরিচর্যা খরচ বেশি হওয়ায় দরপতনের কারণে এবার উৎপাদন খরচই উঠবে না।

যশোর সদরের নোঙরপুর গ্রামের কৃষক শামসুল হক বিশ্বাস এই মৌসুমে দুই বিঘার কিছু বেশি জমিতে করলা চাষ করেছেন। বাজারে মণ দুয়েক করলা এনেছিলেন। বললেন, দাম খুবই কমে গেছে। বিক্রি হয়েছে সাড়ে পাঁচশ’ টাকা মণ। যেভাবে চলছে, তাতে এবার খরচ উঠবে না।

নোঙরপুর গ্রামের একটি ব্লকে প্রায় আড়াইশ’ কৃষক সবজি চাষাবাদ করেন। করলা শেষ হলেই সেখানে আবাদ হবে ফুলকপি ও বাঁধাকপি।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর সদরে ১৮৭ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র ইছালি ইউনিয়নে ৪২ হেক্টর, যার ৩৫ হেক্টরই নোঙরপুরে।

শামসুল হক বিশ্বাস একা নন, একই গ্রামের মোহাম্মদ টুকু বলেন, তিন বিঘা জমিতে এবার করলার চাষ করেছি। গত বুধবার পাইকারের কাছে ৪২ মণ করলা নিয়ে যান। বললেন, ৩৮০ টাকা মণ দরে দিতে হয়েছে।

এক সপ্তাহ পরপর তিনি করলা তোলেন। গত সপ্তাহে এনেছিলেন ৪০ মণ, দাম ছিল পাঁচশ’ টাকা করে। আড়াই মাস পর্যন্ত তিনি ফসল তুলতে পারবেন বলে জানান।
কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে কমবেশি খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। করলা তুলতে একজন শ্রমিকের মজুরি ৪০০ টাকা। রয়েছে পরিবহন খরচ। দুই বিঘা থেকে করলা তুলতে লাগে পাঁচ শ্রমিক। সব খরচা বাদ দিয়ে লাভের মুখ সুদূর পরাহত।

পূর্বপাড়ার ইবাদত হোসেন অবশ্য জানান, তিনি ৫২০ টাকা করে আড়াই মণ করলা বিক্রি করেছেন।

ভিন্ন দাবি পাশের লেবুতলা গ্রামের কৃষক শঙ্কর পালের। তিনি দুই বিঘা দুই কাঠা জমিতে উন্নতজাতের করলা চাষ করেছেন। তার করলার দাম একটু বেশি। গত হাটে বিক্রি করেন ৬৮০ টাকা, এবার পাইকার দাম বলেনি। দাম কম দিলে পরেরবার এখানে আর বিক্রি করবেন না বলে জানান।

শঙ্কর পাল জানান, তার করলা ক্ষেতে তিনি বিশেষ পরিচর্যা করেন। বীজ বপণের পর থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত প্রতিনিয়ত পরিচর্যা। প্রথমদিকে তিনি ২২শ’ টাকা মণ বিক্রি করেছেন। তবুও তিনি আশঙ্কা করছেন, এবার করলায় অন্যদের মতো তারও লস হবে। কেননা দুইবিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ৬৫ হাজার টাকার মতো। এ পর্যন্ত তিনি বিক্রি করেছেন ৪৫ হাজারের কিছু কম। দিন যতো যাচ্ছে, করলার দামও পড়তি।

কথা হয় সবজির পাইকার (ব্যাপারি) হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, করলা চাষ করা কৃষকদের অবস্থা বেশ খারাপ। প্রথমদিকে দাম ভালো পেলেও এখন খুবই কম।

হাফিজুর রহমান যশোর থেকে করলাসহ বিভিন্ন সবজি ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, গোপালগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় পাঠান। তিনি বলেন, করলা কেজিপ্রতি কেনা পড়েছে ১২-১৩ টাকা দরে। সব খরচ বাদে ১৮-২০ টাকা দরে বিক্রি করা যাবে। তিনি দেড়শ’ মণ করলা কিনেছেন।

হাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে সবজির দাম খুবই কম। বরবটি কেজিপ্রতি ৫-৬ টাকা, পটল ৬ টাকা, ধুন্দল ৫-৬ টাকা, ঝিঙে দশ টাকা দরে কিনেছেন।

আবু সাঈদ শেখ নামে অপর পাইকার বলেন, ‘বরিশাল, ঢাকা, মাদারিপুর, সাতক্ষীরা প্রভৃতি জেলায় সবজি সরবরাহ করি। করলা কেনা পড়েছে ৪৮০-৫৫০ টাকা মণ দরে।’ চাহিদা থাকলে কেজিপ্রতি দুই টাকা করে লাভ থাকে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, যশোর সদরের নোঙরপুরকে বলা হয় ‘করলার গ্রাম’। এখন বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে করলার ক্ষেত। করলা মূলত তিনমাসের ফসল। এপ্রিলের শেষে বীজ বপণ করতে হয়। মে মাসের মাঝামাঝি ফল পাওয়া যায়। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ফসল মেলে। হেক্টর প্রতি এক মৌসুমে ১৩.৫ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়।

তিনি বলেন, প্রথমদিকে কৃষকরা ২২ থেকে ২৬শ’ টাকা দাম পেয়েছে মণপ্রতি। তিন যতো বাড়ছে, দামও ততো কমছে। তবে, কৃষকের ক্ষতি হবে না।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)