যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কর্মজীবী শিক্ষার্থী শহীদ বাসারের পরিবার আর্থিক কষ্টে

শাহারুল ইসলাম ফারদিন

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই,২০২৬, ১০:০০ এ এম
কর্মজীবী শিক্ষার্থী শহীদ বাসারের পরিবার আর্থিক কষ্টে

যশোর সদর উপজেলার আমদাবাদ আলমনগর পশ্চিমপাড়ার একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস আনজুয়ারা বেগমের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কৃষক কুদ্দুস আলীর মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তার মেজ ছেলে রাসেল রানা ওরফে বাসার।

দিনে পড়াশোনা আর রাতে যশোর বিমানবন্দরে ট্রলি ঠেলার কাজ করে মা ও ছোট ভাইয়ের ভরণপোষণ চালাতেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যশোরের জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হলে থেমে যায় পরিবারের একমাত্র আয়ের পথ। সরকারের প্রকাশিত খসড়া গেজেটে শহীদ তালিকার ৩৪৭ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে তার নাম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩১ মে বাবা কুদ্দুস আলীর মৃত্যুর পর বাসার সংসারের দায়িত্ব নেন। যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়নের আলমনগর মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে তিনি চৌগাছার পাশাপোল ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কলেজে ভর্তির জন্য ছবিও তুলেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি রাতে যশোর বিমানবন্দরে ট্রলি ঠেলে যে আয় করতেন, তা দিয়েই চলতো মা আনজুয়ারা বেগম ও ছোট ভাই তারেক হোসেন তুষারের সংসার।

আনজুয়ারা বেগম বলেন, ছেলে প্রায়ই তাকে বলতো, ‘মা, বাবা মারা গেছে তো কী হয়েছে? আমি সরকারি চাকরি করবো। তখন তোমাদের আর কোনো কাজ করতে হবে না।’

পরিবারের ভাষ্য, ৫ আগস্ট সকালে দাদির দেওয়া একটি রুটি খেয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিজয় মিছিলে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হন বাসার। দুপুরে মাকে ফোন করে বলেন, ‘মা, ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে, আমরা জয়লাভ করেছি।’ মায়ের প্রশ্নের জবাবে জানান, সহযোদ্ধাদের সঙ্গে একটি খাবার হোটেলে ডাল-ভাত খেয়েছেন এবং পরে আবার বিজয় মিছিলে অংশ নেবেন। সেটিই ছিল মায়ের সঙ্গে তার শেষ কথা।

এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেলে স্থানীয়দের কাছে পরিবার জানতে পারে, জাবির হোটেলের সামনে গিয়ে বাসার মিছিলের দল থেকে আলাদা হয়ে যান। রাত আটটার দিকে খবর আসে, হোটেলে লাগা আগুনে তিনি মারা গেছেন।

ছেলের মৃত্যুর পর রাসেল রানার নাম সরকারের খসড়া গেজেটে শহীদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে পরিবারের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুদান ও ঈদ উপহার নিয়ে এলেও পরে আর কেউ তাদের খোঁজ নেননি।

বর্তমানে আনজুয়ারা বেগম সেলাইয়ের কাজ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন করে সংসার চালাচ্ছেন। ছোট ছেলে তারেক হোসেন তুষার যশোর সরকারি এমএম কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তার পড়াশোনার ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

আনজুয়ারা বেগম বলেন, ‘এখন আমার একটাই আশা, ছোট ছেলেটা লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকরি করুক। তাহলে হয়তো এই কষ্টের জীবন থেকে একটু মুক্তি পাবো।’

সরকারি গেজেটে শহীদ হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও পরিবারটিকে পুনর্বাসিত করা হয়নি। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর পর পরিবারটি এখন অনিয়মিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের মতে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটিকে পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং শিক্ষা-জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)