যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে কমিটি, পরিবার চায় আগের স্থান

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুলাই,২০২৬, ১০:২০ পিএম
আপডেট : বুধবার, ২২ জুলাই,২০২৬, ১১:১১ পিএম
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে কমিটি, পরিবার চায় আগের স্থান

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের চত্বরের স্থানে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নামে নামফলক ও ভবিষ্যতে সেখানে বৃহৎ পরিসরের একটি ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে।

এই কমিটি প্রতিবেদন দিলে তাদের নির্বাচিত স্থানে পূর্ণ মর্যাদয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে।

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ‘ভাস্কর্য কে অপসারণ করছে জানে না কেউ’ শিরোনামে গত ১৫ জুলাই সুবর্ণভূমিতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক ভাস্কর্য অপসারণের কাজ স্থগিত করে এবং তা পুনঃস্থাপনের বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে বুধবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

তবে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা আগের স্থানেই ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন পরে ফোনে জানান, ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাংবাদিক নেতা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। কমিটির স্থান সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্বাচিত স্থানে পূর্ণ মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ঝিনাইদহ যশোর ছয় লেন সড়ক প্রকল্পের আওতায় শহরের প্রবেশমুখে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়ের আদলে একটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ হবে। এ কারণে সেখানে আগের অবকাঠামো রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ওই স্থানটি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ হিসেবেই সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে সেখানে আরও বড় পরিসরে একটি ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে ঝিনাইদহে প্রবেশকারী সবাই বুঝতে পারেন এটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জেলা।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঝিনাইদহ জেলা কমান্ডার আব্দুল মজিদ মাস্টার, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমানসহ সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বর্তমান স্থানেই পূর্ণাঙ্গভাবে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক বলেছেন- বর্তমান যেখানে হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য আছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে একটি সাইনবোর্ড দিয়ে হামিদুর রহমান নামে একটি চত্বর উদ্বোধন করবেন এবং পরবর্তীতে যাতে ভাস্কর্য নির্মাণ করা যায় সে বিষয়ে একটি রেজুলেশন করেছেন।

এদিকে, সভার দিনই সকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে বলা হয়, শহরের প্রবেশমুখে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশপ্রেম ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগে পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছে।

পরিবারের দাবি, ভাস্কর্যটির নকশা, সৌন্দর্য বা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংস্কার, আধুনিকায়ন বা পুনর্নির্মাণ করা যেতে পারে। তবে, কোনো অবস্থাতেই এটি অন্যত্র স্থানান্তর করা উচিত হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে ভাস্কর্যটি আগের স্থানেই পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। আবেদনপত্রে পরিবারের পাঁচ সদস্য স্বাক্ষর করেন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় আবেদনটি গ্রহণ করেছে বলে জানান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)