যবিপ্রবি প্রতিনিধি
কৃষিতে রাসায়নিকের অপচয় রোধ, ভবিষ্যতে স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা এবং কৃষি ন্যানো-প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণার লক্ষ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ন্যানো বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (এনএএমই) ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান এবং আমেরিকার বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও গুগল স্কলারে এক লাখের বেশি সাইটেশনধারী বিজ্ঞানী মাইকেল এস. স্ট্রানোর মাঝে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সম্প্রতি ড. খান এমআইটি সফরকালে অধ্যাপক মাইকেল এস. স্ট্রানোর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করেন এবং যৌথ গবেষণার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির আওতায় ড. খানের পরিচালিত হিট প্রজেক্টের ‘ন্যানো পেস্টিসাইড ফর্মুলেশন’ (পরিবেশবান্ধব ন্যানো-কীটনাশক) এবং অধ্যাপক স্ট্রানোর ‘ন্যানো ট্রান্সপোর্টেশন ইন প্ল্যান্ট’ (উদ্ভিদের অভ্যন্তরে ন্যানোকণার পরিবহন) বিষয়ক গবেষণাকে একত্রিত করে কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিকের অপচয় রোধে কাজ করা হবে।
ড. জাভেদের উদ্ভাবিত স্মার্ট ফর্মুলেশন এবং অধ্যাপক স্ট্রানোর উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ পরিবহন প্রযুক্তির সমন্বয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তৈরি হবে স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা। এছাড়াও উভয় অধ্যাপক তাদের গবেষণা তথ্য, গবেষণাগারের সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করবেন।
দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পাশাপাশি, এই দুই অধ্যাপক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানচেস্টারে সাউদার্ন নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী গর্ডন রিসার্চ কনফারেন্সে অংশ নিচ্ছেন। ‘ন্যানোস্কেল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিস্টেম’ -শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাঁরা নিজ নিজ উদ্ভাবন উপস্থাপন করছেন। সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ন্যানোপ্রযুক্তি গবেষকদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যৌথ গবেষণার রূপরেখা নিয়েও মতবিনিময় করবেন।
এ বিষয়ে ড. জাভেদ হোসেন খান বলেন, বিশ্বমানের গবেষণা এককভাবে নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যায়। এমআইটির মতো একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যবিপ্রবির এই যৌথ উদ্যোগ আমাদের গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আমরা এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছি, যা কৃষিতে রাসায়নিকের অপচয় কমাবে, পরিবেশ রক্ষা করবে এবং কৃষকদের জন্য তৈরি হবে পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্ট এগ্রিকালচার ব্যবস্থা। আমি মনে করি, এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যবিপ্রবি’র NAME ল্যাবকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।