যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগকারী রবিন খুদা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ০৩:৩৪ এ এম
আপডেট : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগকারী রবিন খুদা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

ভারতের প্রযুক্তিখাতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া অস্ট্রেলীয় ধনকুবের রবিন খুদা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি বিশাল এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

ঘোষণার পর থেকেই দেশের গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। কারণ তার শেকড় বাংলাদেশের মাটিতেই জন্ম ও শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক অধ্যায় কেটেছে ঢাকায়।

ঢাকায় শৈশব, অস্ট্রেলিয়ায় সাফল্যের গল্প

রবিন খুদার জন্ম রাজধানী ঢাকায়। তিনি শেরেবাংলা নগর গভর্নমেন্ট হাইস্কুল এবং এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজে পড়াশোনা করেন। পারিবারিক ভিটা সিরাজগঞ্জ জেলার ছাতিয়ানতলী গ্রামে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে তার বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই।

তার বাবা এস এম ওয়াজেদ আলী উচ্চমাধ্যমিকের জন্য ঢাকায় এসে পরবর্তীতে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে রবিন উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিদেশে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার ভিত্তি তৈরি করেন।

বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে স্ত্রী, দুই কন্যা ও বাবা-মাকে নিয়ে বসবাস করছেন।

করপোরেট জীবন থেকে উদ্যোক্তা

পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি টেলিযোগাযোগ ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে কাজ করেন। সিংটেল ও ফুজিৎসুর মতো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। পরে পাইপ নেটওয়ার্ক এবং নেক্টডিসিতে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে কাজ করেন।

এরপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এয়ারট্রাঙ্ক, যা অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ ডেটা সেন্টার অপারেটর হিসেবে দ্রুত আত্মপ্রকাশ করে। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুরে আধুনিক ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছে।

বর্তমানে এয়ারট্রাঙ্ক বিশ্বে দ্রুত বর্ধনশীল ডেটা সেন্টার কোম্পানিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তি অবকাঠামো খাতে অসাধারণ সাফল্যের কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। দেশটির ধনীদের তালিকায় তার অবস্থান ৩৮তম, এবং তার সম্পদের পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

শিক্ষায় অনন্য দান

শুধু ব্যবসায় নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অর্থ দিয়ে আগামী ২০ বছরব্যাপী একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালিত হবে, যা তরুণীদের এসটিইএম শিক্ষায় উৎসাহ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসেই নয়, বরং নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ইতিহাসেও কোনো একক ব্যক্তির দেওয়া সর্ববৃহৎ দাতব্য অনুদান।

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

রবিন খুদার প্রতিষ্ঠান ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় তিন লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারকে সামনে রেখে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন আর্থিক ও কৌশলগত সহযোগিতা দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর গত ৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এয়ারট্রাঙ্ক জানিয়েছে, তারা ভারতজুড়ে প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট সক্ষমতার ডেটা সেন্টার অবকাঠামো নির্মাণ করবে, যা দেশটির ডিজিটাল রূপান্তরে বড় ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এক তরুণের এই উত্থান এখন শুধু প্রবাসী সাফল্যের গল্প নয় বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)