যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিশেষ সম্পাদকীয়

সংবাদ থেকে পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর

এক বছরে সুবর্ণভূমি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
সংবাদ থেকে পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর

আজ সুবর্ণভূমির প্রথম বর্ষপূর্তি। একটি সংবাদমাধ্যমের জন্য এক বছর খুব বেশি সময় নয়। কিন্তু এই অল্প সময়ে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করা, পাঠকের আস্থা অর্জন করা এবং ছাপা পত্রিকা, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার সমন্বয় ঘটানো—নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

তবে সুবর্ণভূমির পথচলা এক বছরের নয়। শুধু অনলাইন মাধ্যমে এর আগে প্রায় অর্ধযুগ পথ পাড়ি দিয়েছে সুবর্ণভূমি। ফ্যাসিবাদী সরকারের রোষানলে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সংবাদজগতে সুবর্ণভূমি একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা ও পাঠকের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়েই নতুন পর্বের যাত্রা।

নতুন এই যাত্রায় আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—সুবর্ণভূমিকে ‘পরিবর্তনের গণমাধ্যম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

পরিবর্তনটা কোথায়? সংবাদকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টায়। শুধু একটি ঘটনা জানানো নয়; সংবাদকে এমনভাবে তুলে ধরা, যাতে প্রশ্ন ওঠে, জবাবদিহি তৈরি হয় এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আসে। যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও বঞ্চনার গল্প তুলে ধরতে আমরা সেই চেষ্টাই করে চলেছি।

এক বছরে প্রকাশিত অসংখ্য প্রতিবেদনে তার প্রতিফলন রয়েছে। বছরের পর বছর পড়ে থাকা হাসপাতালের অবকাঠামো, নৌবন্দর ও নদীর নাব্য সংকট, ফ্যাসিস্টদের নৈরাজ্য, শত কোটি টাকা ব্যয়ের পরও শহরের জলাবদ্ধতা, উচ্ছেদ অভিযানে অনিয়মের অভিযোগ, অথবা মাদক, শিক্ষা, নিয়োগ কিংবা নাগরিক দুর্ভোগ—এসব বিষয়কে আমরা শুধু ‘খবর’ হিসেবে দেখিনি; প্রশ্ন তুলেছি, জবাব চেয়েছি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। পরিবর্তনটা এখানেই।

ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা যেমন সাংবাদিকতার দায়িত্ব, তেমনি অভিযোগ যাচাই করা, অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া এবং কোনো পক্ষের বক্তব্যকে অন্ধভাবে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করাও সাংবাদিকতার মৌলিক শর্ত। সুবর্ণভূমি এই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।

আমরা বিশ্বাস করি, একটি সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মালিকানা, প্রযুক্তি কিংবা প্রচারসংখ্যা নয়, বরং পাঠক-দর্শকের আস্থা। এই আস্থা এক দিনে তৈরি হয় না; প্রতিটি সংবাদ, অনুসন্ধান, ভুলের সংশোধন এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তা অর্জন করতে হয়।

সুবর্ণভূমির নতুন যাত্রায় ঐতিহ্যবাহী ছাপা পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনলাইনের গতি ও মাল্টিমিডিয়ার শক্তি। সংবাদকে শুধু পড়ার বিষয় হিসেবে নয়, দেখার, শোনার ও বোঝার সুযোগও তৈরি করতে চেয়েছি আমরা।

এই এক বছরের পথচলায় পাঠক-দর্শকের আস্থা আমাদের শক্তি জুগিয়েছে, আত্মতুষ্ট করেনি, বরং সামনে আরও বড় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নগরায়ণ, নদী-খাল দখল, পরিবেশ বিপর্যয়, কৃষি ও বাণিজ্যের পরিবর্তন, সীমান্তকেন্দ্রিক সাদা ও কালো অর্থনীতি, মাদক, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অভিবাসন—সব মিলিয়ে মানুষ নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন ও সংগ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ বোঝা যায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে—প্রত্যন্ত জনপদে, কৃষকের মাঠে, শ্রমজীবী মানুষের ঘরে এবং সাধারণ নাগরিকের অভিজ্ঞতায়। সুবর্ণভূমি সেই মানুষের সংবাদমাধ্যম হতে চায়।

আমরা চাই, যে মানুষটি ক্ষমতার দ্বারে পৌঁছাতে পারেন না, সুবর্ণভূমির বদৌলতে তার কণ্ঠস্বরও যেন উচ্চতর মহলে পৌঁছায়। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফল মানুষ পাচ্ছে কি না, উন্নয়নের নামে দুর্ভোগ বাড়ছে কি না—সেই প্রশ্নও যেন থাকে। একই সঙ্গে এই জনপদের সাফল্য, সম্ভাবনা, সংস্কৃতি ও মানবিক গল্পগুলোও আমরা তুলে ধরতে চাই। কারণ সাংবাদিকতা কেবল সংকটের আয়না নয়; সম্ভাবনার পথও দেখাতে পারে।

সুবর্ণভূমির প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, একটি ভালো সংবাদ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, একটি ভালো অনুসন্ধান সমাজকে প্রশ্ন করতে উদ্বুদ্ধ করে, একটি প্রতিবেদন প্রশাসনকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে পারে, আর একটি মানবিক গল্প মানুষের হৃদয় ছুঁতে পারে।

সুবর্ণভূমি কারও প্রতিপক্ষ হতে চায় না; কিন্তু অন্যায়, অনিয়ম ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রশ্নে নীরবও থাকতে চায় না। আমাদের কাছে সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সার্থকতা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারা, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সত্যের প্রতি, আর সবচেয়ে বড় সম্পদ পাঠক-দর্শকের বিশ্বাস।

একটি কথা না বললেই নয়, মুক্তিযুদ্ধে জয়যুক্ত না হতে পারলে আমরা স্বাধীন দেশ পেতাম না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান না হলে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হতে পারতাম না। এই দুই ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কাছে সুবর্ণভূমি ঋণী। বিশেষত, সুবর্ণভূমিকে আমরা গণঅভ্যুত্থানের ফল হিসাবেই মনে করি। সেকারণে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট আমাদের পাথেয় হয়ে আছে, থাকবে।

প্রথম বছরে যারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন—লেখক, পাঠক, দর্শক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা এবং নানা পর্যায়ে সহযোগিতা করা মানুষ, সবার প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

এক বছর মানে পথচলার সমাপ্তি নয়; বরং আরও দীর্ঘ পথের শুরু। আগামী দিনেও সুবর্ণভূমি মানুষের পাশে থেকে মানুষের কথা বলতে চায় আরও সাহস নিয়ে, আরও দায়িত্বশীলভাবে, আরও গভীরে গিয়ে।

সম্পাদকীয় নোট: দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে দৈনিক সুবর্ণভূমি আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার বর্ধিত কলেবরে প্রকাশিত হবে। বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানও ওই দিনই হবে। সেই অনুষ্ঠানে সবাইকে আমন্ত্রণ।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)