যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যত বিস্তৃত হবে গণতন্ত্র তত বিকশিত হবে

প্রকাশ : সোমবার, ২৬ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
আপডেট : সোমবার, ২৬ অক্টোবর,২০২৬, ১২:০৪ এ এম
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যত বিস্তৃত হবে গণতন্ত্র তত বিকশিত হবে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অগ্রগতি এবং নির্বাচনের পর সহিংসতা হ্রাসের চিত্র উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তৈরি এই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক পরিবেশের কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ, পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহি এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এই মূল্যায়ন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ মতপ্রকাশ, সভা-সমাবেশ এবং প্রকাশ্য আলোচনায় বেশি স্বাধীনতা পাচ্ছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন দল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতিবাদ করতে পারছে। ২০২৬ সালের নির্বাচন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ও কম সহিংস হয়েছে এবং নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব পরিবর্তন ইতিবাচক হলেও গণতন্ত্রের অগ্রগতি কেবল নির্বাচনের পরিবেশ কিংবা রাজনৈতিক সংঘাত কমে যাওয়ার মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারকে সমালোচনা করার অধিকার যেমন বিরোধী দলের থাকতে হবে, তেমনি সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদেরও নির্ভয়ে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেদনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। যারা দুর্নীতি, সহিংসতা বা নিপীড়নে জড়িত ছিলেন না, তারা নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারলেও প্রকাশ্যে দলীয় সমর্থন জানালে হয়রানি ও সামাজিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বিবেচনা করা ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। যদিও হাসিনা সরকারকে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়তাকারীরা ক্ষমা পেতে পারেন কি না, তা নিয়ে সমাজে জোর বিতর্ক আছে। আবার মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিশোধ নয়, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়াই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের নীতি।

প্রতিবেদনে পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা ২১ হাজারের বেশি মামলা বাতিল হয়েছে এবং অন্য মামলাগুলো পর্যালোচনাধীন। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার জরুরি হলেও প্রক্রিয়াটি হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। একইভাবে চলমান ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচারেও অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার পেছনে স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সম্পদ দখলের বিষয়টি উদ্বেগজনক। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি জরুরি।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক পরিবর্তনকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে রূপ দেওয়া। এ জন্য সংস্কারের অগ্রগতি প্রকাশ, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কার্যক্রমের পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হলেও এগুলোকে স্থায়ী গণতান্ত্রিক অর্জনে পরিণত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। গণতন্ত্রের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে নাগরিকেরা কতটা নিরাপদে কথা বলতে পারেন, আইনের সমান সুরক্ষা পান এবং রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহি দাবি করতে পারেন—তার ওপর।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)