যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

হাম-ডেঙ্গু দ্বৈত সংকট: ঝুঁকিমুক্ত থাকতে সচেতনতাই প্রথম

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুলাই,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
হাম-ডেঙ্গু দ্বৈত সংকট: ঝুঁকিমুক্ত থাকতে সচেতনতাই প্রথম

যশোর জেলা বর্তমানে এক ভয়াবহ দ্বৈত স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি। একদিকে হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, অন্যদিকে ডেঙ্গুজ্বর উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৯৩ জন, অথচ চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জনে। অর্থাৎ, সংক্রমণের হার প্রায় দ্বিগুণ।

অভয়নগর ও যশোর সদর উপজেলাকে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গুর ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৭৫ জন; এর মধ্যে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫৩ জন। গত ৪ জুলাই সৌদিপ্রবাসী যুবক সোহেল হোসেনের মৃত্যু ঘটনা আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, ডেঙ্গু এখন আর উপেক্ষণীয় নয়, এটি প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে।

বিশেষভাবে লক্ষণীয়, গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে যশোরে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক হাজার ২০৫ জন। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময় ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। আর এ বছরের জুনের পর থেকে মাত্র ২৮ দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯০ জন; যা আগামী মাসগুলোর জন্য এক ভয়াবহ পূর্বাভাস।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, বিশেষ ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও বাড়তি বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভয়নগরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব সঠিকভাবেই চিহ্নিত করেছেন যে, মোংলা-বেনাপোল করিডোর, শিল্পাঞ্চল ও নৌবন্দরকেন্দ্রিক এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল মানুষের যাতায়াত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে শুধু প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়; বাস্তবসম্মত ও টেকসই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল ঠিকই বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। কিন্তু এই কাজ একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ নাগরিক- সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা- যেখানেই পানি জমতে পারে, সেখানেই হতে পারে মশার প্রজননস্থল। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন ঘরের ভেতরে ও বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো অত্যন্ত জরুরি।

অপরদিকে, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৫ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও এখনো কোনো মৃত্যু হয়নি, তা সান্ত্বনার কারণ হতে পারে না। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনসচেতনতার অভাব। অনেকেই সাধারণ জ্বর ভেবে ডেঙ্গুকে অবহেলা করেন, অথচ টানা জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, পেট ব্যথা বা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জীবন বাঁচাতে পারে। দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে।

আমরা যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা যশোরের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালাতে হবে।

আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা। আর এই প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু সরকার বা স্বাস্থ্য বিভাগের নয়; এটি আমাদের সবার। হাম ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত যশোর গড়তে এখনই সচেতন হোন, সজাগ থাকুন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)