মেহেরপুর প্রতিনিধি
বরেণ্য চারুশিল্পী গোলাম মোস্তফা আর নেই। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি সাহারবাটি গ্রামের শহীদ এমলাখ হোসেনের মেজো ছেলে।
জীবদ্দশাতেই মানবতার প্রতি অনন্য দায়বদ্ধতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার প্রসারে নিজের চোখসহ মরণোত্তর দেহ দান করে গেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। শিল্পে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এবং মানুষের কল্যাণে আজীবন নিবেদিত এই গুণী মানুষ মৃত্যুর পরও যাতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যেতে পারেন, সেজন্যই এই মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি তার দেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গেছেন।
চারুশিল্পী গোলাম মোস্তফার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাতিজা ও স্কুলশিক্ষক তামজিদুর রহমান মুক্তি। তিনি স্ত্রী মেহেরন নেছা, দুই কন্যা শুভ্রা ও প্রভা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গোলাম মোস্তফা ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমান চারুকলা অনুষদ) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সরাসরি ছাত্র ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যায় মেহেরপুরের সাহারবাটি গ্রামের কবরস্থান প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।
এই মহান ব্যক্তির মৃত্যুতে মেহেরপুরে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।