মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে ‘অনলাইন জুয়ার এজেন্ট’ ও সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা পাঁচ মামলার পলাতক আসামি শামীম রেজাকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শামীম রেজা মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ বলছে, শামীম রেজা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অর্থ লেনদেন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়সহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের সময় শামীমের কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তাকে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকায় অভিযান চালিয়ে শামীমের পরিচালিত দুটি অনলাইন জুয়ার চ্যানেলের সন্ধান পায় সিআইডি। চ্যানেল দুটি রোজ ফ্যাশনের মাসুদের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করতেন শামীম। ঢাকায় থেকে চ্যানেল দুটি পরিচালনার সঙ্গে সুমন ও শামীমের চাচাতো ভাই সাদ্দামও যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সিআইডির অভিযানে সুমন গ্রেপ্তার হলেও সাদ্দাম ও শামীম গ্রেপ্তার এড়িয়ে যান।
ওই দুটি চ্যানেল উদ্ধারের ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় সাদ্দামকে এক নম্বর, শামীমকে দুই নম্বর এবং সুমনকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শামীমের বিরুদ্ধে মেহেরপুরে দুটি এবং ঢাকার সিআইডিতে আরও তিনটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন শামীম। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মেহেরপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন ক্যাসিনো ও মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।