যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

‘নাজমুল হত্যাকাণ্ড প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীকে লাইভ দেখানো হয়’

খুলনায় র‌্যাবের ব্রিফিং: প্রতিশোধে খুন মঞ্জুরুল

খুলনা অফিস

প্রকাশ : শনিবার, ২২ আগস্ট,২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
‘নাজমুল হত্যাকাণ্ড প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীকে লাইভ দেখানো হয়’

খুলনায় সম্প্রতি নাজমুল ও মনজুরুল নামে যে দুই যুবক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তার পেছনে রয়েছে দুটি সন্ত্রাসী চক্রের কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও শক্তিমত্তা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে প্রথম হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের এক ক্যাডারকে ভিডিও কলে রেখে।

এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আল আমিন হাসান ওরফে সাইফি (২১) ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিব (১৭) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তাদের কাছ থেকে একটি শটগান একটি পিস্তল ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় র‍্যাব-৬ এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৬ এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানান, গত ১৯ আগস্ট খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার হরিণটানার আশিবিঘা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটে। যেখানে ভিকটিম মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (২৩) ও মো. নাজমুলকে (১৮) গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মুহূর্তেই ঘটনাটি স্থানীয় জনসাধারণের মনে ভীতির সঞ্চার করে এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

ঘটনা-পরবর্তী সময়ে র‌্যাব-৬ এর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত পরিদর্শনের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তিনি বলেন, তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি এবং তার সন্ত্রাসী দলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে খুলনা মহানগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে এই সন্ত্রাসীকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। সবশেষ ২১ আগস্ট শুক্রবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী এলাকা থেকে সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে আটক করা হয়।

র‌্যাব বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইফি এবং রাকিব এ হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। অভিযুক্ত সাইফির বর্ণানুযায়ী, ভিকটিম নাজমুল ছিলেন সাইফি গ্রুপের সদস্য। অভিযুক্ত সাইফি কথিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘বি কোম্পানি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী কাউয়া মিরাজের হয়ে কাজ করেন। অন্য ভিকটিম মঞ্জুরুল সন্ত্রাসী রোহান-পলাশ গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত বলে সাইফি জানান।

সাইফির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তার দলের সদস্য নাজমুলকে সন্ত্রাসী রফিক আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপায় এবং অস্ত্র দিয়ে তার মুখে আঘাত করে তাদের দেখিয়ে কল কেটে দেয়। এর প্রেক্ষিতে সাইফি ও তার দলের ১৫/১৬ জন সদস্য প্রতিশোধ নিতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় যায়। ওই সময় রফিক গ্রুপ মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে বাবার সামনেই তাকে গুলি এবং কুপিয়ে হত্যা করে। কয়েক ঘণ্টা পর গুলিবিদ্ধ ও কোপানো অবস্থায় নাজমুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ জোড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব কমান্ডার নিস্তার আহমেদ আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করে। সন্ত্রাসী সাইফের বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ চারটি মামলা রয়েছে। সে দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকার ইসমাইল হত্যা মামলারও আসামি। এছাড়া জোড়াহত্যা ও ইসমাইল হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসী ফয়সালের ভাই ফারদিনের নামও এসেছে। দুই গ্রুপের ২৫ জনের তথ্য এবং নাম জানা গেছে।

মূলত দুই গ্রুপের কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে এই হত্যাকাণ্ড দুটি সংঘঠিত হয়েছে। অতিদ্রুত বাকি অভিযুক্তদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলেও দাবি করেন র‌্যাব কমান্ডার।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)