সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভূমিদস্যু হিসেবে অভিযুক্ত আলমগীর ও শরিফুলের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পৈত্রিক ২৫ বিঘা জমির চিংড়ি ঘেরে হামলা, ভাঙচুর ও দশ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে শহরের সুলতানপুর এলাকার মৃত ফজলুল কাদেরের মেয়ে ফারজানা কাদের অরিন এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেবহাটা থানার বালিখা ও বিল শিমুলবাড়িয়া মৌজায় অবস্থিত ‘ধাপার ঘের’-এ এসএ খতিয়ান নম্বর ৯, ২০১, ১৭, ১৫, ৭৮, ৭৯, ৮০, ১২৪, ৩১, ৫৮, ৩৩, ৯৮, ১১৫সহ অন্যান্য এবং বিআরএস খতিয়ান নম্বর ১৬৯, ১১০, ২৬৭, ১৭০, ১৭১, ১৪০, ৭১, ১১১, ১১৯সহ অন্যান্য খতিয়ানের মোট ৮ দশমিক ৩৩ একর সম্পত্তি তাদের পৈত্রিক।
তিনি বলেন, তার বাবা ফজলুল কাদের ২০০২ সালে মারা যাওয়ার পর মা ও তিন ভাই-বোনকে অসহায় পেয়ে তার দাদা আবুল কাশেম এবং তার ওয়ারিশ শরিফুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন জোরপূর্বক তাদের পৈত্রিক জমি অবৈধভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। জমির হারির টাকা কিংবা সঠিক অংশ দাবি করলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
দীর্ঘ ১৬ বছর নানা কষ্ট ও আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে পৈত্রিক সম্পত্তিতে তাদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে তারা ওই পৈত্রিক সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘেরে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ করে আসছেন।
কিন্তু শরিফুল ইসলাম গং তাদের পৈত্রিক জমি জবরদখলের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।
ফারজানা কাদের অরিন আরও বলেন, তাদের বৈধ দখল মেনে নিতে না পেরে শরিফুল ইসলামের মা তাহমিনা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। পর্যায়ক্রমে মামলাটি জজকোর্ট হয়ে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর আদালত বাদীর মামলাটি খারিজ করে দেন।
তিনি বলেন, হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার পর বাদীপক্ষ পুনরায় ২০২৫ সালের ২৯ মে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির আবেদন করে। হাইকোর্টের ‘স্টে অর্ডার’ বহাল থাকায় আদালত ওই মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত করেন। আদালতে হেরে গিয়ে বাদীপক্ষ বারবার পুলিশ প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে মনগড়া অভিযোগ করতে থাকে।
তবে হাইকোর্টের ‘স্টে অর্ডার’ বহাল থাকায় পুলিশ প্রশাসন তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে তাদের বিচার করার কোনো এখতিয়ার নেই।
অরিন অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এবং তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শরিফুলের ভগ্নিপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলামের ইন্ধনে শরিফুল, আলমগীর ও তুহিনের নেতৃত্বে একটি লাঠিয়াল বাহিনী গত ১৮ আগস্ট সকালে বালিথার ‘ধাপার ঘের’-এ তাদের ২৫ বিঘা মাছের ঘেরে হামলা চালায়।
এ সময় ঘেরের পাহারাঘর ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর করা হয়। পরে ঘের থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের গলদা ও বাগদা চিংড়ি লুট করে নিয়ে যায় তারা। যাওয়ার সময় ঘেরে বিষ ঢেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে ঘেরে থাকা বাকি মাছ মারা যায়।
পরবর্তীতে শরিফুল, আলমগীর, তুহিন ও জামায়াত নেতা বনি আমিনের নেতৃত্বে সদরের শিমুলবাড়িয়া এলাকায় তাঁদের আরও ৭ বিঘার একটি ঘেরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অরিন। এভাবে তাঁরা তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অরিন আরও বলেন, আদালত ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। পক্ষান্তরে শরিফুল ও আলমগীর গং আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাদের আইনের আওতায় এনে পৈত্রিক ২৫ বিঘা সম্পত্তির চিংড়ি ঘের রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।