পরকীয়া ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্য হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।
দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিরোধ, ঝগড়া ও ক্ষোভের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মৃত মজিদ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়।
৪ আগস্ট সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ৫ আগস্ট কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ০২। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নামে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের যৌথ দল।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল আসামি জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আসাদুল শেখ ও আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় আসাদুল শেখের ঘর থেকে আলামত হিসেবে একটি মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা যায়, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে বিরোধ তীব্র হয়।
এ নিয়ে নিহতদের একজন মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের একাধিকবার বচসা হয়। একই বিষয়কে কেন্দ্র করে জাহিদুলের নিজের স্ত্রীর সঙ্গেও পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, এসব বিরোধ, ক্ষোভ ও প্রতিশোধের জেরেই জাহিদুল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পরে অপর দুই আসামির সহযোগিতায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হয়।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের কথিত স্বীকারোক্তির বিস্তারিত এবং হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ, পরিকল্পনা, সহযোগীদের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ ও আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বলা হচ্ছে।
আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই দায় ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।