৬০ ঘন্টা পর উদ্ধার করে হাসপাতালে
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যৌতুকের দাবিতে যশোরে ফারজানা আক্তার সুমি (৩০) নামে এক গৃহবধূকে ঘরে আটকে রেখে মাথার চুল কেটে এবং কাঠের চলা দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আটকে রাখার অন্তত ৬০ ঘণ্টা পর শুক্রবার নির্যাতিত ওই নারীর মা খবর পেয়ে মণিরামপুরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নির্যাতনের শিকার ফারজানা আক্তার সুমি কেশবপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে এবং মণিরামপুর উপজেলার ষোলাকুল গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মাহাবুর রহমানের স্ত্রী।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমি জানান, বুধবার সকালে যৌতুকের দাবিতে স্বামী মাহাবুর তাকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে জোর করে মাথার সব চুল কেটে দেন। সেই সঙ্গে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে তাকে ঘরে আটকে রেখেই স্বামী বাইরে চলে যান।
এরপর আবার একই দাবিতে শুক্রবার সকালে ঘরে ঢুকে তাকে কাঠের চলা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন মাহাবুর।
খবর পেয়ে আহত গৃহবধূর মা চম্পা খাতুন শুক্রবার বিকেলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় জামাইয়ের বাড়ি থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে রাত ১০টার দিকে সুমিকে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানিয়েছেন, সুমির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্র দিয়ে সুমিকে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
যশোর জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য মনির হোসেন বলেন, আহত সুমি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য কোতোয়ালি থানায় জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।