স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের অভয়নগরে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ঢাকায় পাচারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের নলামারা গ্রামের বাড়ির সামনে সড়কে দাঁড়িয়ে ছিল ১৪ বছর বয়সী তনুশ্রী বিশ্বাস। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে রাতুল শেখ ও মুজাহিদ মোল্লা তাকে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ।
তনুশ্রীকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভয়নগর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রাতুল শেখ তাকে নিয়ে গেছেন। এরপর তনুশ্রীর বোন মনিষা বিশ্বাস বাদী হয়ে রাতুল শেখ, তার বাবা ও বোনসহ ছয়জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভয়নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতুল শেখ ও তার বাবা তাজউদ্দিন শেখকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
পুলিশ বলছে, তনুশ্রীকে প্রথমে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের মাধ্যমে বাসযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় আসিফ নামে এক ব্যক্তির কাছে আরও চার তরুণীর সঙ্গে তাকে আটকে রাখা হয়। তাদের পাহারায় একজন অজ্ঞাতনামা নারী ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তনুশ্রী কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে গুলিস্তানের একটি বাস কাউন্টারে গিয়ে তার বোন পূর্ণিমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া তনুশ্রী বিশ্বাস (১৪) অমর বিশ্বাসের মেয়ে। তার বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের নলামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায়। তিনি খুলনার শিরোমণি থানার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার খড়রিয়ার তাজউদ্দীনের ছেলে রাতুল শেখ (২১) ও রাজ্জাক মুজাহিদ মোল্লা (২৩) নারী অপহরণ ও পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা গ্রামের সহজ-সরল মেয়েদের অর্থ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীদের কাছে তুলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।