যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
আপডেট : শনিবার, ৩ অক্টোবর,২০২৬, ০২:১৮ এ এম
দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার দেবহাটায় একটি পোল্ট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রের মুখে খামারের মালিকের স্বজনদের জিম্মি করে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, মুরগির খাদ্য, আইপিএস ব্যাটারি, নগদ টাকাসহ মালামাল লুট করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দেবহাটা উপজেলার কদমখালি-শশাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কদমখালির বাসিন্দা আনছার আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে ছইল উদ্দিন গাজী (৬০), আবু সুফিয়ান (৩৫), রাজু আহমেদ (৫০), আলফাজ উদ্দিন (২৭), আলেয়া বেগম (৪৫) ও মোশাররফ মোল্লাসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাতের আঁধারে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল পিকআপ ভ্যান নিয়ে খামারে চড়াও হয়। তাদের কয়েকজনের হাতে দা, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা খামারে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খামারের মুরগি, খাদ্য ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পিকআপে তুলে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, রাত ১০টার দিকে তিনি খামারের পাশে মোটরসাইকেল রেখে ঘেরে যান। রাত আড়াইটার দিকে ফিরে দেখেন তার মোটরসাইকেলটি নেই। ঘটনাস্থলে তখন ৪০-৫০ জন লোক দা, কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিল।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মী মণ্ডল জানান, রাতে বাড়ির বাইরে হইচই শুনে তিনি বের হন। তখন রাস্তায় লাঠি ও ধারালো অস্ত্র হাতে অনেক লোককে চলাচল করতে দেখেন। তার দাবি, শুধু খামার নয়, আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে ঢুকেও মালামাল লুট করা হয়েছে।

খামারের মালিকের ছেলে সবুজ হোসেনের দাবি, খামারে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, ২০ বস্তা খাদ্য, আইপিএস ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল ছিল। সব মিলিয়ে তাদের আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় মোহাম্মদ জিয়াত আলী বিশ্বাস বলেন, ‘রাত ৪টার দিকে আমার ভাই আমাকে ডেকে জানায়—কয়েকজন ব্যক্তি তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খামারের সবকিছু লুটে নিয়েছে। আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানাই। ঘটনাস্থলে কয়েকজন অভিযুক্তকে আটকে রাখা হলেও পুলিশ পরে তাদের আটক না করেই চলে যায়।’

এদিকে ঘটনার পেছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাবুরাম সরকার।

তিনি বলেন, জমিটি তার মায়ের সম্পত্তি ছিল, যা পরে তিনি বিক্রি করেন। ওই জমির মালিকানা নিয়ে সোহেল গাজীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

জমির বর্তমান মালিক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমি জমিটি ক্রয় করে আমার দাদু আনছার আলী বিশ্বাসকে মুরগি পালনের জন্য লিজ দিয়েছি। জমি কেনার পর থেকেই মালিকানা নিয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা আদালতে বিচারাধীন। সেই বিরোধের জেরেই খামারে এই বর্বরোচিত হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।’

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত সুফিয়ানের বাবা আসাফুর রহমান বিস্তারিত বক্তব্য না দিলেও বলেন, ‘অপরাধ যে-ই করুক না কেন, তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হয়ে শাস্তি পেতে হবে।’

ভুক্তভোগীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিন বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)