সংবাদ সম্মেলন:
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
গভীর রাতে ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক শিক্ষকের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তার স্বামী রবগুল হুসাইন।
এ ঘটনায় আজিজুর রহমান (৩০) নামে একজনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৩-১৪ জনের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই মাদরাসাশিক্ষক।
লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মহেশপুর উপজেলার সুন্দরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবগুল হোসাইন (৩৬) সামন্তা দাখিল মাদরাসার শিক্ষক। গত ৪ জুন কোটচাঁদপুর উপজেলার জালালপুর লক্ষ্মরপাড়া এলাকার তহিরা খাতুনকে (২৬) ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক রবগুল হোসাইন অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই কোটচাঁদপুরের ইকরা গ্রামের আজিজুর রহমান বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাকে ও তার স্ত্রীকে ফোন করে তহিরা খাতুনকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করে আসছিলেন। এ সময় কাবিননামা দেখাতে বললে আজিজুর তা দেখাতে ব্যর্থ হন। উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডিসহ মোবাইল ফোনে তাদের প্রতিনিয়ত গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর ধারাবাহিকতায় গত ২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে আজিজুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ১৩-১৪ জন ব্যক্তি দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে রবগুল হোসাইনের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা ওই শিক্ষকের মা-বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রবগুলকে ডাকতে বাধ্য করে। দরজা খুলে বারান্দায় আসার পর হামলাকারীরা নিজেদের ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশ পরিচয় দেয় এবং রবগুলের নামে ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানায়। এ সময় ঘর থেকে তার স্ত্রী বের হলে তিনি প্রধান অভিযুক্ত আজিজুর রহমানকে চিনতে পারেন।
একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তহিরা খাতুনকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলেও ততক্ষণে অপহরণকারীরা দৃষ্টির বাইরে চলে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তহিরা খাতুনের সন্ধান না পেয়ে অবশেষে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আটকে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।