গোসল নিয়ে বিরোধ:
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
গোসল করাকে কেন্দ্র করে বিরোধে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী জুয়েল আল ইমরান ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত তানভীর হক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের।
ভুক্তভোগী জুয়েল জানান, শুক্রবার দুপুরে হলের ওয়াশরুমে গোসলের সময় বালতি রাখা নিয়ে তানভীরের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তারা ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলার একটি চায়ের দোকানে বসেন। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হঠাৎ জুয়েলের বাম কানে সজোরে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দিয়ে ফেলে দেন। পরে বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জানান, ‘শিক্ষার্থীর কানের পর্দা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভেতরে রক্ত জমে আছে। সম্ভবত পর্দাটি ছিদ্র হয়ে গেছে। তাকে দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে।’
অভিযুক্ত তানভীর হক থাপ্পড় মারার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তার বন্ধুরা মারমুখী আচরণ করায় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে আমি একটি থাপ্পড় দিই। বিষয়টি যে এতটা গুরুতর রূপ নেবে, তা আমি জানতাম না।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্যও থাপ্পড় মারার ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন।
শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মজনুজ্জামান বলেন, ‘হলের বাইরে আমতলায় মীমাংসার আলোচনার সময় তানভীর হাত দিয়ে জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হামিদুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।’