যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আলমডাঙ্গায় বাড়িতে ডেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর,২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
আলমডাঙ্গায় বাড়িতে ডেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বাড়িতে ডেকে নিয়ে চয়ন (৪০) নামে এক চপ-পেঁয়াজু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে তার মরদেহ হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে অজ্ঞাতনামা এক ভ্যানচালক চলে যান।

নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। নিহত চয়ন হারদী ইউনিয়নের হারদী কৃষি ক্লাবপাড়ার গদোর ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি চপ-পেঁয়াজু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

এ ঘটনায় হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর বিশ্বাসপাড়ার ইয়ামিন হোসেনের জামাতা হেলাল উদ্দীন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তিনি মালয়েশিয়াপ্রবাসী।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ফোনে চয়নকে হেলালের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে মারধর করা হয়। পরে চয়নের ছেলে মারুফকে ফোন করে তার বাবার কাছে টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে মারুফ ও তার দাদাকে সঙ্গে করে তিনটি স্ট্যাম্প কিনে হেলালের বাড়িতে যেতে বলা হয়।

দুপুরের দিকে মারুফ ও তার দাদা সেখানে গেলে তাদের জানানো হয়, চয়ন আত্মহত্যা করেছেন। পরে একটি ভ্যানে করে চয়নের মরদেহ হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে মরদেহ রেখে ভ্যানচালক চলে যান।

চয়নের ছেলে মারুফ বলেন, 'আমার বাবাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হেলালের পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, তা আমি জানি না। টাকা-পয়সার কোনো লেনদেন থাকলেও আমরা তা পরিশোধ করতাম। কিন্তু এ জন্য তাকে কেন পিটিয়ে হত্যা করা হলো?'

কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর আগে হেলাল মালয়েশিয়ায় থাকাকালে তার মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে চয়নের সঙ্গে হেলালের স্ত্রীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হওয়া নিয়ে হেলাল ও চয়নের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও সামনে আসে বলে তারা জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ দিন আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন হেলাল। দেশে ফেরার পর তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ওসমানপুরে ফিরে আসার পর চয়নকে তার বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুবায়েদ হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই চয়নের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে চয়নের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)