মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের বেজড়া গ্রামের বিশ্বাসের তে-মাথার মোড় এলাকায় এই তাণ্ডব চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেজড়া গ্রামে নহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেনের অনুসারী ইমদাদ (৪০) তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ফারুক হোসেনের অনুসারী মাছ ব্যবসায়ী ইকলাছকে (৪৫) মারধর করেন। এই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি বসতঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
সংঘর্ষে ফারুক হোসেনের অনুসারী মো. দেলোয়ার মুন্সী (৪৫), জসিম (৩১), নেয়ামত মুন্সি (৪২), মিলন মোল্লা (৪০) ও তানজিল মুন্সি (১৭) এবং মাহমুদ হোসেনের অনুসারী মজিবর (৪৫) আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে দেলোয়ার মুন্সীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভাঙচুর চলাকালে মাহমুদ হোসেনের পক্ষের মো. ফারুকুজ্জামান, মজিবর, মো. জাহেদুল ইসলাম ও কাইয়ুমের টিনের বসতঘর এবং ফারুক হোসেনের পক্ষের ইমরান ও আমানের চা-মুদি দোকানসহ ডাবলুর বসতবাড়ি কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
খবর পেয়ে মাগুরা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল দেওয়ানের নেতৃত্বে মহম্মদপুর থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ এবং পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামিম আহমেদ জানান, পুনরায় সহিংসতা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।