খুলনা অফিস
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ট্রেড লাইসেন্স (বাণিজ্য) শাখার রাজস্বের টাকা আত্মসাৎ এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসের মাধ্যমে ১১টি লাইসেন্স বই গায়েবের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দুটি দায়ের করেন।
দুদক খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেসিসির ট্রেড লাইসেন্স শাখার রাজস্বের লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ ও পরবর্তীতে তা ফেরত দিলেও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দায়িত্বে অবহেলা ও দলিল গায়েবের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে এই দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, প্রথম মামলায় (দুদক, সজেকা, মামলা নম্বর-১২) আসামি করা হয়েছে তিনজনকে। তারা হলেন কেসিসির লাইসেন্স পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান, তৎকালীন সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার ও বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ফারুক হোসেন তালুকদার এবং হিসাব বিভাগের ক্যাশিয়ার সঞ্জীব কুমার সাহা।
এজাহারে বলা হয়, প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান ট্রেড লাইসেন্স শাখার রাজস্বের উত্তোলিত মোট ৩৪ লাখ ২১ হাজার ১১২ টাকা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে কেসিসির নিজস্ব অডিট ও তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে, দায়িত্বে অবহেলা, সঠিক তদারকি না করা এবং প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজসে অর্থ আত্মসাতের দায়ে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪০৯/১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
দ্বিতীয় মামলায় (দুদক, সজেকা, মামলা নম্বর-১৩) আসামি করা হয়েছে পাঁচজনকে। তারা হলেন লাইসেন্স পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, শেখ শাহেদ হাসান, কাজী মনজুর-উল-আলম এবং সাময়িক বরখাস্তকৃত সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার ফারুক হোসেন তালুকদার।
এই মামলায় অভিযোগ আনা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে কেসিসির ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ট্রেড লাইসেন্স (বাণিজ্য) শাখার রাজস্ব আদায়ের ১১টি লাইসেন্স বই অপরাধের প্রমাণ বা আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গায়েব করে ফেলেছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/২০১/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।