সুবর্ণভূমি ডেস্ক
যশোরের মণিরামপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সনাতনিদের শত বছরের জগদ্ধাত্রী মন্দির, পূজামণ্ডপ ও নালিশি সম্পত্তি দখল এবং পূজা-অর্চনায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার বোনই মুজাহিদুর রহমান।
এই ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় পালপাড়া এলাকার শতাধিক হিন্দু পরিবার।
গত ৩ নভেম্বর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর জানমালের নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার দাবিতে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মণিরামপুর উপজেলার মোবারকপুর মৌজার অন্তর্গত ৩১৯ দাগের একটি নালিশি জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং-২৩৩/২০২৫) বিচারাধীন রয়েছে। ওই জমির ওপর পালপাড়া এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী মন্দির স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় পূজা-অর্চনা ও উৎসব চলে আসছে। সেখানে স্বপন পালের নেতৃত্বে প্রতি বছর শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালত নালিশি সম্পত্তির ওপর উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযোগে বলা হয়, প্রতিপক্ষ মুজাহিদুর রহমান আদালতের এই আদেশ তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে নালিশি সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজের দখলে নেন। তিনি চালুয়াহাটি ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদের বোনই। সেকারণে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্বপন পালের বাস্তভিটা অবরুদ্ধসহ মন্দিরের চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। একইসাথে স্বপন পালের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, আগামী ১৮ নভেম্বর ওই মন্দিরে পূর্বনির্ধারিত একটি পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তিনি সেখানে সনাতনিদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এই মন্দিরে ঐতিহ্যগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে পূজা হয়ে আসছে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যেভাবে প্রাচীর দিয়ে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। আমরা সব সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষ বিচার দাবি করছি।’
তবে মুজাহিদুর রহমান জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিনি। ওই জমির মালিকানা আমার এবং আমি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির ওপরেই সীমানা প্রাচীর দিয়েছি। মন্দির কিংবা কাউকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আদালতের আদেশের কপিও হাতে এসেছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইন অমান্য করে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগীদের পক্ষে স্বপন কুমার পাল বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আমাদের ধর্মীয় উপাসনালয়, ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী মন্দির ও বাস্তভিটা জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সম্রাট হোসেন জানান, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’