স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের শংকরপুর এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। শহরের গুরুত্বপূর্ণ অন্তত চারটি পয়েন্টে প্রকাশ্যে চলছে এই চক্রের মাদক বাণিজ্য। সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভয়ে এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যশোর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের শংকরপুর ছোটনের মোড় এলাকার আলাউদ্দিন আলার ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তার এই চক্রে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ইয়াছিন, ইমরান, সুজন, রাজা ও বাদশাহসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধী।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘গোল্ডেন সাব্বির’ নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি এখন জাহাঙ্গীরের ‘প্রধান সেনাপতি’ হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন; একসময় সন্ত্রাসী নয়নের প্রধান সহযোগী ছিলেন তিনি।
এই সিন্ডিকেটটি মূলত যশোর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, যশোর কলেজ, নাজির শংকরপুর ভাঙাগেট এবং যশোর মেডিকেল কলেজের পেছনের এলাকা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব স্পটে দিন-রাত অবাধে মাদক বিক্রি ও সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই চক্রের প্রধান জাহাঙ্গীর এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অস্ত্র রাখা, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে যশোর কোতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী এই সিন্ডিকেটের গতিবিধির ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে জাহাঙ্গীরের অপরাধ ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ে স্থানীয় সংবাদপত্রে তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর কিছুদিন তিনি ও তার সহযোগীদের তৎপরতা বন্ধ ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর তারা আবারও পুরোদমে মাদক ব্যবসা শুরু করায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে কিছুদিন আগে মাদক বেচাকেনার টাকার ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় আরেক সন্ত্রাসী অনির সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধের জেরে আলতুর ছেলে অনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। পাশাপাশি এলাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে নানামুখী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এই সশস্ত্র মাদক চক্রটিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।