সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পাঁচ লাখ ৫২ হাজার টাকা মূল্যের দশ টন (২০০ বস্তা) চাল আত্মসাতের মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত নম্বর প্লেট পরিবর্তন করা একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি, বায়েজিদ বোস্তামী ও বাকলিয়া থানা এলাকা এবং কুমিল্লার দেবীদ্বারে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ মে বিকেল ৫টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দরের মুকুল এন্টারপ্রাইজের গোডাউনের সামনে থেকে ২০০ বস্তা চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন চালক সিরাজ মিয়া (৬৩)। ট্রাকটির নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-ট-২২-১৯৫৩।
চালগুলো যশোরের নওয়াপাড়ায় এমবিকে এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত গন্তব্যে চাল কিংবা ট্রাক কোনোটিই পৌঁছায়নি।
এ ঘটনায় জান্নাত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ম্যানেজার সাধন দাস বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৭ মে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করেন।
পেনাল কোডের ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় দায়ের করা মামলাটির এফআইআর নম্বর ৩২ এবং জিআর নম্বর ২৩৩।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পরস্পর যোগসাজশে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে চালগুলো আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন আসামিরা। অপরাধের তথ্য গোপন করতে ট্রাকটির নম্বর প্লেটও পরিবর্তন করা হয়েছিল।
মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) শাকিল জোয়ার্দ্দার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাগুরার শালিখা থানা এলাকা থেকে সোহাগ হোসেন (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেন।
পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলি হলে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই (নিঃ) সমীর গাইন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের অগ্রগতি ঘটিয়ে গত ৬ নভেম্বর তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে তিনজন এবং কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেন।
একই অভিযানে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে অপরাধে ব্যবহৃত চট্ট-মেট্রো-ট ১১-৯৩৮৪ নম্বরের ট্রাকটি জব্দ তালিকামূলে উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রাকটি সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে আসা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, আত্মসাৎ করা চাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।