স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধ্বংসের জন্য সংরক্ষিত ফেনসিডিল চুরির সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন আদালতের বহুল আলোচিত সেই জারিকারক সেলিম হোসেন।
এ সময় তার শ্যালক হুমায়ন কবীরকেও আটক করা হয়। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কোর্ট পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করেন।
ঘটনাস্থল থেকে ৪৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটক সেলিম হোসেন যশোর সদরের কুয়াদা সিরাজসিংহা গ্রামের নওশের আলী মোড়লের ছেলে। তার শ্যালক হুমায়ন কবীর লেবুতলা বলেশ্বরপুর গ্রামের আমির হামজার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে টাকা আত্মসাৎ, বিচারকের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। বহুল বিতর্কিত এই কর্মচারীর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগীরা আনন্দ প্রকাশ এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। তারা সেলিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, যশোর আদালতের সিএসআই শরিফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তিনি মাগরিবের নামাজ শেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পূর্বপাশে বেঞ্চে বসে ছিলেন। এ সময় হুমায়ন কবীর একটি জ্যাকেট পরে আদালত এলাকায় প্রবেশ করেন। জ্যাকেটের ভেতরে ভারি কিছু রয়েছে বলে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে তিনি দৌড়ে আদালতের আলামত ধ্বংসখানার দিকে চলে যান। সন্দেহজনক আচরণ দেখে শরিফুল ইসলাম তার পিছু নেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান সেলিম হোসেন একটি ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশ সদস্যদের দেখে দুইজনই পালানোর চেষ্টা করেন। শরিফুল ইসলামের চিৎকারে নাইটগার্ডসহ অন্যরা এগিয়ে এসে তাদের দুজনকেই আটক করেন। পরে তাদের কাছ থেকে ৪৬ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়, যা আদালতের আলামত ধ্বংসখানা থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাদের নির্দেশনায় একটি চুরির এবং অপরটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, সেলিমের আটকের খবর শুনে রূপদিয়া বাজারের বাসিন্দা মওদুদ ইসলাম আদালত চত্বরে এসে সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের অংশ হিসেবে মিষ্টি বিতরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেলিম তার চাকরির প্রভাব খাটিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তার জমি দখল করেছেন। এ বিষয়ে মামলা করেও তিনি কোনো ন্যায়বিচার পাননি।
উল্লেখ্য, সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে তার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে তার নেতৃত্বে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।