ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় সরকারি ওষুধ বিক্রির সময় সালমা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা বাজারে এঘটনা ঘটে।
আটক সালমা খাতুন সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাস্টাররোলভুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং মান্দারবাড়িয়া গ্রামের পাভেল আহমেদের স্ত্রী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বালিয়াডাঙ্গা বাজারে একটি দোকানে বাজারের ব্যাগে করে শিশুদের সিরাপ, ডায়াবেটিস ও প্রেশারের ওষুধ বিক্রির চেষ্টা করেন সালমা খাতুন।
বিষয়টি নজরে এলে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। তবে কত পিস ওষুধ ছিল জানা যায়নি।
ঘটনার পর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার ছায়েদুল ইসলাম বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রুমা খাতুন ও সালমা খাতুনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সালমা খাতুনের বাবা রাজু আহমেদ দাবি করেন, তার মেয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে ক্লিনিকে কাজ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি রুমা খাতুন ওষুধগুলো মেয়ের কাছে বিক্রির জন্য দিয়েছে।
এখানে আমার মেয়ে তো কোনো দোষ নেই। তার বসের অর্ডার মতো কাজ করেছে। ধরলে তাকে ধরে বিচার করুন।
এ বিষয়ে জানতে বালিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি রুমা খাতুনের মোবাইলফোনে বার বার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডক্তোর মিথিলা ইসলাম জানান, আটক নারী জিজ্ঞাসাবাদে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রুমা খাতুনের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। উদ্ধার করা ওষুধগুলো ক্লিনিকের সেবাপ্রত্যাশীদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ছিল। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। আটক সালমা খাতুনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং জব্দ ওষুধসহ তাকে বুধবার আদালতে পাঠানো হবে। অপর আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে।