স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ঝিনাইদহের মহেশপুরের নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাখিলা বইয়ের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার দায়ে সাবেক অফিস সহায়ক রেজাউল হক ভাস্করকে পৃথক ধারায় ২৯ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এসএম নূরুল ইসলাম এক রায়ে এই সাজা দেন।
সাজাপ্রাপ্ত ভাস্কর মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি ভাস্কর নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যবহৃত ৭৫/২০১৬-১৭ নম্বর দাখিলা বই থেকে বিভিন্ন সিরিয়ালের মোট আটটি পাতা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে ছিঁড়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৯ নভেম্বর অফিসে দাখিলা বই পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। জানাজানির পর কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে অফিস সহায়ক রেজাউল হক ভাস্কর দাখিলা বইয়ের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
মহেশপুর উপজলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও পুলিশ সদস্য আসামি ভাস্করের বাড়িতে অভিযান চালালে কয়েকটি দাখিলার কপি স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করেন ও কয়েকটি কপি ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে জানান।
এছাড়া, ভাস্করের কক্ষ থেকে দুইটি ডিসিআর কপি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সিলমোহর ও টাকা উদ্ধার করা হয়।
সরকারি নথিপত্র ও সম্পদ আত্মসাৎ এবং বিনষ্টে ভাস্করকে আসামি করে মামলা করেন নেপা ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা শাহজাহান আলী।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক রিজিয়া খাতুন মামলার তদন্ত শেষে আসামি রেজাউল হক ভাস্করকে অভিযুক্ত করে ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ ঝিনাইদহ জেলা জজ আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য যশোর বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণশেষে আসামি রেজাউল হক ভাস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৬১ ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৪৬৭ ধারায় দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায় আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪৬৮ ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ২ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড, ২০৪, ৪৭১, ৪৮৫, ৪৮৮ ধারায় দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ২ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস করে বিনাশ্রম করাদণ্ড ২০১ ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড করিমানা আদায় আরো তিন মাসের বিনাশ্রম করাদণ্ড ও দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আরো তিন বছর সংশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। রায়ে সব সাজা একইসাথে চলবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত রেজাউল হক ভাস্কর জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছেন।