স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ভাইয়ের কোলে শুয়ে আদালতে মামলা করতে এলেন প্রতিপক্ষের দায়ের আঘাতে মাথার খুলি ভেঙে যাওয়া নাছিমা বেগম ওরফে নাছি। ভেঙে যাওয়া মাথার খুলি এখনো তিনি প্রতিস্থাপন করতে পারেননি। কথাও বলতে পারেন না। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জখম হয়ে কোন রকম বেঁচে আছেন তিনি। নাছিমা সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের হোসেন আলী মেম্বারের মেয়ে। আর আদালতে মামলাটি করেছেন তার ভাই সাইদুল ইসলাম।
যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন, গোপালপুর আদর্শ গ্রামের আজিতের দুই ছেলে টিপু (২৭) ও অপু (২৫) এবং মৃত ইছাহক দফাদারের দুই ছেলে পল্টু (৪৫) ও মাহাবুব (৫০)।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের সাথে হোসেন আলী ও তার পরিবারের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। যে কারণে প্রায় সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ২৩ মে আসামিরা, দা, লোহার রড, ধারালো হাসুয়া নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। এ সময় তার পিতা হোসেন আলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। সে সময় তার বোন নাছিমা প্রতিবাদ করলে লোহার রড দিয়ে আসামিরা তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে তার মাথার হাড় ভেঙে দেবে যায়। এসময় তার বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার কপালে লাগে এবং কেটে যায়। তারা মাটিতে পড়ে গেলে আসামিরা এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এরপর তারা বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পরে নাছিমা ও তার পিতাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু নাছিমার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে আইসিইউতে ছিলেন। তার মাথার হাড় কৃত্রিমভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এখনো তিনি বসতে পারে না। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে বলে জানানো হয়।
সিনিয়র জুডিসয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে সরাসরি থানায় এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে তদন্ত করে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।